মেলবোর্ন, ৪ মে- ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হয়, যা বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার সমান। ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা।
এই দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি-তেও। আজকের গণনার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে কোন রাজ্যে কোন দল সরকার গঠন করবে।
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে না পারা বিজেপির জন্য এই নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে প্রায় ৮৯ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ওঠে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে শাসক ডিএমকে জোট, এআইএডিএমকে জোট এবং অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে-র মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই চলছে। কেরালার ১৪০টি আসনে বামফ্রন্ট বা এলডিএফ টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে, যদিও বিভিন্ন এক্সিট পোল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ-এর পক্ষে ইঙ্গিত দিয়েছে।
আসামের ১২৬টি আসনে বিজেপি টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে পুদুচেরির ৩০টি আসনে এন রঙ্গস্বামীর নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া এনআর কংগ্রেস (এআইএনআরসি) পুনরায় ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
ভোট গণনা শুরু হয়েছে পোস্টাল ব্যালট দিয়ে, এরপর ধাপে ধাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) খোলা হচ্ছে। গণনাকেন্দ্রগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্ট্রং রুমে রাখা ব্যালটগুলো কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায় রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও আলাদাভাবে নজরদারি রাখছে।
গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য কিউআর কোডযুক্ত পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মোবাইল ব্যবহার করতে পারছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুপুরের মধ্যেই কোন দল এগিয়ে আছে তার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। তবে চূড়ান্ত ফল পেতে কিছু ক্ষেত্রে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।