কেরানীগঞ্জে কিশোর গ্যাং লিডারকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা
ঢাকার কেরানীগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার কিশোর গ্যাং…
জুলাই আন্দোলনে সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক।
রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর একই ধরনের অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার প্রায় ১০ মাস পর দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ছয় নেতার মামলার রায় হলো।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়।
দুটি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাতটি রায়ে এ পর্যন্ত ৬৮ আসামিকে বিভিন্ন ধরনের সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ আসামির মধ্যে ১৮ জনই পলাতক এবং চারজন কারাগারে রয়েছেন।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি কাউন্টে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই বিকেলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মুঠোফোনে কথোপকথন হয়। আন্দোলন দমনের প্রসঙ্গে ওই সময় কাদের সাদ্দামকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা ও নাতিপুতি’ বলে বক্তব্য দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের উপস্থিত থেকে বক্তব্যের সমর্থন ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্ররোচনায় ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরদিন ১৫ জুলাই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের ‘আত্মস্বীকৃত রাজাকারদের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’ বলে বক্তব্য দেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাঠে নামতে উসকানি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব বক্তব্য ও নির্দেশনার পর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে নারীসহ বহু শিক্ষার্থী আহত হন।
১৬ জুলাই আন্দোলন দমনে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলককে ফোন করে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। একই দিনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ফোন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এসব নির্দেশনার পর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার মুরাদপুর এলাকায় মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফয়সাল আহম্মেদ শান্ত ও মো. ফারুক নিহত হন। একই দিনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও আন্দোলনকারী নিহত হন।
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় কাউন্টে অভিযোগ করা হয়, ১৭ জুলাই তেজগাঁওয়ের দলীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাদের আন্দোলন দমনে নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
১৮ জুলাই ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকে সরকারবিরোধী ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের রাজপথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
১৯ জুলাই গণভবনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক শেষে কারফিউ ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশের কথা বলেছিলেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে এর দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে অপহরণ, গুম, হত্যা ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এসব নির্দেশনা ও পরিকল্পনার পর ১৮ থেকে ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর, মহাখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালিয়ে বহু আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।
তৃতীয় কাউন্টে বলা হয়, ৩ আগস্ট ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের পাড়া-মহল্লায় অবস্থান নিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনার পর ৪ ও ৫ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর, ফেনীর মহিপাল, লক্ষ্মীপুর ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীরা নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমন ও সহিংসতায় উসকানি এবং নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ জুলাই ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলায় সমর্থন ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, নাছিমের নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুরে আন্দোলন দমনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতি তদারক করতেন। ১৮ ও ১৯ জুলাই সেখানে আন্দোলনকারীদের হত্যার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।
৪ আগস্ট ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নাছিমের বিরুদ্ধে। এর পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনাতেও তাঁর দায় রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উসকানি, সহিংসতা ও দমন-পীড়নে ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়। ১৩ জুলাই তেজগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে কোটা আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৪ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে আরাফাত বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং পরদিন সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান।
১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আরাফাতের বিরুদ্ধে। তাঁর নির্বাচনী এলাকা মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা তদারক করার অভিযোগও মামলায় আনা হয়।
এ ছাড়া আন্দোলনের সময় কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আরাফাতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলন দমন ও সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতার খবর প্রচারের কারণে ১৮ জুলাই বাংলা ভিশন, দেশ টিভি, চ্যানেল ২৪ ও এনটিভির সম্প্রচার এবং ২২ জুলাই বাংলা ভিশন ও চ্যানেল ২৪-এর সম্প্রচার সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনা অনুযায়ী যুবলীগের নেতা-কর্মীদের আন্দোলন দমনে মাঠে নামানোর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাঁর নির্দেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান।
১৮ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগরে তানভীর ছিদ্দিকী, সায়মন মাহিন ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়াকে হত্যার ঘটনায় যুবলীগের সশস্ত্র নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ১৯ জুলাই মহাখালী এলাকায় শাহাজাহান, গণি মিয়া, আল আমিন রনি, জাহিদ হোসেন, ইমাম মেহেদী হাসান ও মামুন হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনাতেও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের দায়ের কথা বলা হয়।
৪ আগস্ট লক্ষ্মীপুরে এবং ৫ আগস্ট রাজশাহীতে আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনাতেও পরশের নেতৃত্বাধীন যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খানের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমন এবং সহিংসতায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ১২ জুলাই সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ করে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই মাইনুল নিজে অস্ত্র হাতে মিরপুর এলাকায় মহড়া দেন এবং তাঁর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সেখানে গুলি চালানো হয়। এতে রুস্তম, আসিফ ইকবালসহ বহু আন্দোলনকারী নিহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
৪ ও ৫ আগস্ট মিরপুরে আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনায়ও মাইনুলের উপস্থিতি ও তদারকির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি, হামলার নির্দেশ এবং তা তদারকের অভিযোগ রয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রলীগের সমাবেশে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেন তিনি।
ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ১১ জুলাইয়ের কথোপকথনের পর আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার অভিযোগও রয়েছে সাদ্দামের বিরুদ্ধে। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনায় তাঁর ভূমিকার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
১৬ জুলাই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগও আনা হয়। ১৮ জুলাই সারা দেশে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধেও আন্দোলন দমন, উসকানি ও হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৩ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে তিনি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।
১৫ জুলাই তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরদিন রাজু ভাস্কর্যে সাদ্দামের দেওয়া হুমকির সময় ইনান সেখানে উপস্থিত থেকে তা সমর্থন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
১৮ জুলাই ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনায় ইনানের প্ররোচনা, নির্দেশ ও তদারকির অভিযোগ আনা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এসব অপরাধের জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের দায় নির্ধারণের অংশ হিসেবে সাত আসামির বিরুদ্ধে বিচার পরিচালিত হয়।
মঙ্গলবারের রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হলো। সাত আসামিই পলাতক থাকায় তাঁদের গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকরের বিষয়টি এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au