১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আওয়ামী লীগের ২৩ নেতা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ২৩ জন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে এক দিনের বৈঠকে…
ঢাকার কেরানীগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. ফরহাদ হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরহাদ রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ও তাঁর বন্ধুরা ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বন্ধু সাকিব জানান, ফরহাদ পেশায় মাছ ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে বসিলা ব্রিজসংলগ্ন কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনের সামনে চুল কাটাতে গিয়েছিলেন তিনি। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে সাব্বিরের নেতৃত্বে কালা সোহেল, সাগর, হাবিব ও আরমানসহ কয়েকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
সাকিবের দাবি, হামলাকারীরা প্রথমে ফরহাদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও ফরহাদের বন্ধুরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফরহাদ ভোলা জেলার চরফ্যাশন থানার দুলারহাট গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় বসবাস করতেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি একজন। প্রায় চার বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। তবে তাঁর কোনো সন্তান ছিল না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়েরবাজার এলাকায় ‘আরমান শাহরুখ গ্রুপ’ ও ‘পাটালি গ্রুপের’ মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল।
পুলিশ জানায়, কিছুদিন আগে রায়েরবাজার এলাকায় পাটালি গ্রুপের সদস্যরা আরমান শাহরুখ গ্রুপের শাহরুখকে কুপিয়ে আহত করে। পরে চিকিৎসার জন্য শাহরুখকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
পুলিশের তথ্যমতে, নিহত ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধেও মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর অন্যান্য থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। কিছুদিন আগে তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হন।
পুলিশ বলছে, পূর্বশত্রুতা ও দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই ফরহাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলায় কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান ফরহাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও গুলিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
হাবিবুর রহমান বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au