তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্মের নামে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীরা জাতি।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৫ জুলাই: নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি সব ধর্মাবলম্বীর প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করলেই একটি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ধর্মের নামে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীরা জাতি, ধর্ম এবং ঈশ্বরের শত্রু। প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনো অন্যের ধর্ম বা বিশ্বাসকে অসম্মান করেন না।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ও ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মের মহাপুরুষরা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে সর্বশক্তিমানের আরাধনা করেছেন। আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবান যে নামেই ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্যের ঈশ্বরপ্রেম ও ধর্মবিশ্বাসকে সমানভাবে সম্মান করেন। উপাসনার পদ্ধতি ভিন্ন হলেও লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন।
ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। এ ধরনের অশুভ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের সব ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতিকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এখানে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তির কোনো স্থান নেই।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাও জীবন ও রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতায় অবদান রেখেছেন। তাই রাষ্ট্রের কাছে তাদের সাংবিধানিক অধিকার দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে হবে। নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানিতে বিশ্বাস করে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় একই দিনে ঈদ ও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে সমর্থনও কামনা করেন।
স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসকন বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিমলা প্রসাদ দাস।