চব্বিশের ৪ আগস্ট: এক থানায় ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত, এরপর কী ঘটেছিল?
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট:“ছোটভাইকে ফোন করে বলেছিলাম আমাদের থানা অ্যাটাক করেছে। আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। সুযোগ নাই আমাদের বাঁচার। এটাই আমার শেষ কথা জীবনের।…
মেলবোর্ন,০১ আগস্ট: ভারতের বিহার রাজ্যে স্কুলের মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দাবিতে ব্যতিক্রমী আন্দোলনে নেমেছে ‘জেন আলফা’ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। সরকারি বিদ্যালয়ের ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস চলাকালীন বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পদযাত্রা করে স্থানীয় মহকুমা প্রশাসকের (এসডিএম) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের পর প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিহারের গয়া জেলার টিকারি মহকুমার সিমুয়ারা মিডল স্কুলের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে টিকারি মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের সামনে বসে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং স্কুলের পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। টয়লেটগুলো অস্বাস্থ্যকর, শ্রেণিকক্ষের অধিকাংশ ফ্যান অচল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহও অনিয়মিত। এছাড়া মিড-ডে মিলের মান নিম্নমানের, সময়মতো স্কুল ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয় না এবং সার্বিক শিক্ষার পরিবেশও সন্তোষজনক নয়।
ঘটনার পর টিকারির মহকুমা প্রশাসক প্রবীণ কুন্দন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে রাখা হয়েছে সহকারী জেলা সরবরাহ কর্মকর্তা চন্দন কুমার, নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ সিং এবং ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তা যোগেন্দ্র পাসওয়ানকে। তাদের দ্রুত বিদ্যালয় পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় মহকুমা প্রশাসক মাঠপর্যায়ের সরকারি কাজে বাইরে ছিলেন। পরে কার্যালয়ে ফিরে তিনি তিনজন ছাত্রীসহ ছয়জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনে প্রধান শিক্ষককে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এক দিনের বেতন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তদন্ত দল ইতোমধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন শুরু করেছে এবং অবকাঠামো, শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যাচাই করছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ওই আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং সরকার আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটের মধ্যেই এবার বিহারের স্কুলশিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সুত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au