পুলিশের গাড়িতে উগ্রবাদীদের হামলার আশঙ্কা, সতর্কতা জারি
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট: দেশব্যাপী পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জারি…
মেলবোর্ন, ১আগস্ট: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডার মঞ্চে পারফর্ম করে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীত শিল্পী সঞ্জয় দেব জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। একসময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাসা ভাড়া দেওয়ার মতো অর্থও তার হাতে ছিল না। তবে সংগীতের প্রতি ভালোবাসা আর অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দেব বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেসে যখন যাই, তখন বাসা ভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না। মা-বাবাও সেটা জানতেন না। যে অ্যাপার্টমেন্টে ছিলাম, সেখানে পাঁচ বছর মেঝেতেই ঘুমিয়েছি। শুধু কয়েক শ ডলার বাঁচানোর জন্য, যাতে সেই টাকা দিয়ে মিউজিক করতে পারি।’ তিনি জানান, সেই সময় নিজের তৈরি মিউজিক বিটস ১০০ থেকে ১৫০ ডলারে বিক্রি করে জীবন চালাতেন। টিকে থাকার জন্য নানা ধরনের সংগ্রাম করতে হলেও সংগীতের পথ থেকে কখনো সরে যাননি।
সঞ্জয় বলেন, ‘আমি কখনো হারিনি। হয় জিতেছি, নয়তো শিখেছি। ছোটবেলা থেকেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলতাম, একদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার হব। সেই স্বপ্নগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখতাম।’
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে দেখেছেন তার বাবা-মা সংসার চালাতে একসঙ্গে দুটি করে কাজ করতেন। পরিবারের সেই কষ্টই তাকে সফল হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ‘আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এমন কিছু করব যাতে মা-বাবার কষ্ট দূর করতে পারি। সেই লক্ষ্যই আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়েছে।’
সংগীতের প্রতি ভালোবাসার শুরু পরিবারের কাছ থেকেই বলে জানান এই শিল্পী। তার মা ও দিদা গান গাইতেন, আর ছোটবেলায় পারিবারিক গানের আসরে তিনি তবলা বাজাতেন। পরে ১২তম জন্মদিনে মামার দেওয়া একটি ল্যাপটপ এবং মিউজিক সফটওয়্যার তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সঞ্জয় বলেন, ‘তখন থেকেই আমি নিজেকে ওয়ান ম্যান ব্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেছি, যা পরে আমাকে সংগীত প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে কাজ করতে সাহায্য করেছে।’
ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়াকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন কোনো বাংলাদেশি এই মঞ্চে পৌঁছাবে। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি যে সেই যাত্রার অংশ হতে পেরেছি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’ সঞ্জয় আরও বলেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংরেজি ভাষায় গান পরিবেশন করলেও নিজের শিকড়কে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি চেয়েছেন, তার সংগীতের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে নতুন ভাবে চিনুক।
সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, শুরুতে তার তৈরি গান শুনে অনেকেই সমালোচনা করতেন। এমনকি পরিবারও কখনো কখনো বলতেন, তিনি কী বানাচ্ছেন। কিন্তু সেই সমালোচনা তাকে থামাতে পারেনি। মিউজিক ছাড়া অন্য কিছু আমাকে কখনো টানেনি। আমি শুধু ভালোবেসেই কাজটা করে গেছি। এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, পুরো যাত্রাটাই অসাধারণ ছিল। আজও সংগীতকে ঠিক আগের মতোই ভালোবাসি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au