চব্বিশের ৪ আগস্ট: এক থানায় ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত, এরপর কী ঘটেছিল?
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট:“ছোটভাইকে ফোন করে বলেছিলাম আমাদের থানা অ্যাটাক করেছে। আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। সুযোগ নাই আমাদের বাঁচার। এটাই আমার শেষ কথা জীবনের।…
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট: দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক তরুণীর ক্ষমা চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ওই তরুণীকে হাতজোড় করে নিজের বক্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা গেলেও, এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে একাধিক গণমাধ্যম।
ভাইরাল ভিডিওতে ডোরাকাটা টি-শার্ট পরা তরুণীকে বলতে শোনা যায়, আন্দোলনস্থলে উপস্থিত কিছু মানুষের প্ররোচনায় পড়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, সেই আচরণের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
ভিডিওতে তরুণী আরও বলেন, তাঁর বয়স মাত্র ১৫ বছর এবং তিনি নাবালিকা। তিনি বলেন, “আমি যা করেছি, তা ক্ষমার অযোগ্য। এটি আমার জীবনের প্রথম এবং শেষ ভুল। আমি পুরো দেশের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি অত্যন্ত লজ্জিত এবং নিজের মুখও দেখতে পারছি না। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।”
তবে বিষয়টি নিয়ে একটি অসঙ্গতিও সামনে এসেছে। পুলিশের দায়ের করা প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর)-এ অভিযুক্তের বয়স ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ভিডিওতে নিজেকে ১৫ বছর বয়সী বলে দাবি করেছেন ওই তরুণী। এ কারণে ভিডিওটির সত্যতা এবং সেখানে দেওয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তরুণীর ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। ওই বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং তাদের শাস্তির পরিবর্তে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, শৈশব ও কৈশোরে ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকা উচিত। তিনি বলেন, সমাজে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক হলেও তরুণদের আদালতে টেনে নিয়ে হয়রানি করার পরিবর্তে তাদের বোঝানো এবং সঠিক পথ দেখানো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা তরুণদের ক্ষমা করে দিতে চান এবং সমাজকেও একই মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, গালিগালাজ বা বিদ্বেষ কোনো সমস্যার সমাধান নয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভের পর ওই তরুণীর বিরুদ্ধে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট এবং মানহানির অভিযোগে উত্তর প্রদেশের নয়ডা এলাকায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
তবে ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তি আদৌ মামলার অভিযুক্ত কি না এবং তাঁর বয়সসংক্রান্ত দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এসব দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au