চব্বিশের ৪ আগস্ট: এক থানায় ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত, এরপর কী ঘটেছিল?
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট:“ছোটভাইকে ফোন করে বলেছিলাম আমাদের থানা অ্যাটাক করেছে। আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। সুযোগ নাই আমাদের বাঁচার। এটাই আমার শেষ কথা জীবনের।…
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট: অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় ১৫০ বছর আগে ধার নেওয়া একটি বই অবশেষে ফেরত এসেছে। দীর্ঘ দেড় শতাব্দী পর বইটি ফিরে পাওয়ায় লাইব্রেরির পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী হিসাব করলে বিলম্ব ফি বা জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা। তবে এটি মূলত ঐতিহাসিক নিয়ম অনুসারে প্রতীকী হিসাব, প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ আদায় করা হচ্ছে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত ‘অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স’ নামের বিরল বইটি গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর কিয়ামার পাবলিক লাইব্রেরিতে ফেরত দেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি জানান, নিজের বাড়ি সংস্কারের সময় একটি পুরোনো ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা একটি চায়ের বাক্সে বইটি খুঁজে পান।
কিয়ামা লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন বলেন, লাইব্রেরির ১৮৭২ সালের নিয়ম অনুযায়ী বইটি সময়মতো ফেরত না দেওয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে তিন পেন্স বিলম্ব ফি নির্ধারিত ছিল। সেই নিয়ম এবং বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হিসাব বিবেচনা করলে জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ লাখ টাকার সমান।
তিনি বলেন, “আমাদের লাইব্রেরির ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় পর কোনো বই ফেরত আসার ঘটনা এই প্রথম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন লাইব্রেরির এমন ঘটনা দেখেছি, তবে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর পর বই ফেরত আসে। ১৫০ বছর পর বই ফেরত পাওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল।”
লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বইটি কে ধার নিয়েছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ, ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার রেজিস্টার বা দিনলিপি বহু আগেই হারিয়ে গেছে। সেই নথিতেই বই ধার নেওয়া ব্যক্তিদের নাম ও তথ্য সংরক্ষিত ছিল। বইটির ভেতরেও এমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব।
মিশেল হাডসন আরও জানান, সেই সময়ের লাইব্রেরির নিয়ম ছিল, নতুন বই ধার নেওয়ার আগে আগের বই অবশ্যই ফেরত দিতে হবে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারত, তবে শর্ত ছিল পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য পড়তে জানেন। এছাড়া নেশাগ্রস্ত কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না।
তিনি মজার ছলে বলেন, “হয়তো জরিমানার ভয়ে বইটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি।”
দীর্ঘদিন চিমনির ভেতরে পড়ে থাকায় বইটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বইটি এখন কিয়ামা লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হবে।
লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক বলেন, “এখন থেকে বইটি আর বাইরে যাবে না। এটিকে আবার ফেরত পাওয়ার জন্য আমরা আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।”
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au