চব্বিশের ৪ আগস্ট: এক থানায় ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত, এরপর কী ঘটেছিল?
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট:“ছোটভাইকে ফোন করে বলেছিলাম আমাদের থানা অ্যাটাক করেছে। আমি মনে হয় আর বাঁচবো না। সুযোগ নাই আমাদের বাঁচার। এটাই আমার শেষ কথা জীবনের।…
মেলবোর্ন, ১ আগস্ট: এল নিনোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, আগামী কয়েক মাসে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, দাবানল, খরা, বন্যা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে বর্তমানে আফ্রিকা ও ইউরোপে চলমান ভয়াবহ দাবানল এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভারী বর্ষণের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ভয়াবহ বন্যা এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ইতোমধ্যেই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে এবং বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল শুরু। এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে জ্বলতে থাকা অঞ্চলগুলোর সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। সমুদ্রের পানির এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব মিলিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প বন্ধের ওপর জোর দিয়ে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণ বর্তমান জলবায়ু সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায়।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, “এল নিনোর গতিপ্রকৃতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। তবে শুধু পূর্বাভাস দিলেই হবে না। সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং মানবিক সংগঠনগুলোকে আগাম সতর্কবার্তাকে বাস্তব প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বাভাস নিজে থেকে কোনো দুর্যোগ ঠেকাতে পারে না। মানুষের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তুতিই ভবিষ্যতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিজ্ঞানীদের ধারণা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব রেকর্ড পর্যায়ে যেতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাসে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বজুড়ে জলবায়ু প্রস্তুতি জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au