সেউতা সংকটে ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন শঙ্কা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন,১ আগস্ট: স্পেনের স্বায়ত্ত শাসিত ভূখণ্ড সেউতায় অভিবাসীদের ব্যাপক অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে। স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরের নিরাপত্তা ও আন্তঃদেশীয় সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা।
বিবিসির শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্ত শাসিত অঞ্চল সেউতায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন। সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রমের সময় অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমকারীদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার শিশু-কিশোর রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার সেউতা ও মেলিয়ায় সেনাবাহিনী এবং সিভিল গার্ড মোতায়েন করেছে। শহরটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
মার্কার বিশ্লেষক জেরার্দো রিকেলমে লিখেছেন, এটি শুধু একটি মানবিক সংকট নয়; বরং মরক্কো ও স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। তার মতে, সেউতা ও মেলিয়ায় অভিবাসীদের প্রবেশ অনেকাংশে মরক্কোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নীতির ওপর নির্ভরশীল, যা অতীতেও দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রতিবেদনে ২০২১ সালের একটি ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় কোভিড-১৯ আক্রান্ত পলিসারিও ফ্রন্টের এক নেতাকে স্পেনে চিকিৎসা দেওয়ার পর সেউতায় ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনা ঘটে। যদিও মরক্কো বরাবরই এ দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে মানবপাচারকারী চক্রকে দায়ী করে আসছে।
এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাম্প্রতিক ঘটনাকে দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর ‘আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, সেউতা বা মেলিয়ায় সমুদ্রপথে পৌঁছানো অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। সানচেজের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র ওই রায়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে সীমান্ত অতিক্রমে উৎসাহিত করছে।
মার্কার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করতে নিরাপত্তা, ভিসা ব্যবস্থা, পরিবহন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অপরিহার্য। অভিবাসন ইস্যু যদি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে সেই পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি কতটা দৃঢ়- এটাই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রতিবেদনটিতে বিশ্বকাপের আগে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ সেউতা ও মেলিয়া শুধু স্পেনের নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার।
এদিকে সংকটটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স স্পেনকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এটিকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি সাময়িক স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও মাদ্রিদ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।