অস্ট্রেলিয়ার মসজিদে বক্তার বিতর্কিত বক্তব্য, অস্ত্র ধরার আহ্বানের অভিযোগ।ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একটি মসজিদে দেওয়া বক্তব্যে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে শত্রুতা এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার আহ্বান জানানোর অভিযোগ উঠেছে ইসলামি বক্তা আবু আহমাদের বিরুদ্ধে। জুলাই মাসে দেওয়া ওই বক্তব্যের ভিডিও আল বায়্যিনাহ ইসলামিক সেন্টারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্নের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় স্প্রিংভেলে অবস্থিত আল বায়্যিনাহ ইসলামিক সেন্টারে বিভিন্ন সময় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বক্তার বক্তব্য প্রচার করা হয়। আবু আহমাদের একটি বক্তব্যে অনুসারীদের ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব না করার এবং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শত্রুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার বিষয়েও কথা বলেন।
আবু আহমাদ তার বক্তব্যে ইসলামবিরোধী হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন মতাদর্শের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মুসলিম তরুণদের ওপর পশ্চিমা উদারনৈতিক চিন্তাধারার প্রভাব বাড়ছে এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের ধর্মীয় শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
আরেকটি বক্তব্যে আবু আহমাদ পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসের কারণে মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেন। নারীদের পোশাক, নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং কিছু ধরনের সংগীত নিয়েও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
আবু আহমাদের সঙ্গে বিতর্কিত বক্তা ওয়িসাম হাদ্দাদেরও যোগাযোগের কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। হাদ্দাদ অতীতে আবু আহমাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং তাকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমদের মধ্যে সমর্থন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বলে ডেইলি মেইল জানিয়েছে।
এদিকে, সিডনির আল মদিনা দাওয়াহ সেন্টারের সঙ্গেও ওয়িসাম হাদ্দাদের ঘনিষ্ঠতার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কথিত বন্ডাই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সাজিক ও নাভিদ আকরাম ওই কেন্দ্রে একাধিকবার যাতায়াত করতেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব যোগাযোগের সঙ্গে কোনো অপরাধের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
ওয়িসাম হাদ্দাদকে ঘিরেও অস্ট্রেলিয়ায় বিতর্ক রয়েছে। ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছিল। ২০২৫ সালে তিনি সিডনির ফেডারেল আদালতে হাজির হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্ডাই হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণামূলক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এসব আইন নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদও রয়েছে। ন্যাশনালস পার্টির নেতা ডেভিড লিটলপ্রাউড আইনগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সংশোধনের দাবি জানিয়েছিলেন।
আবু আহমাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার ধর্মীয় বিদ্বেষ, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তার বক্তব্যের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট সহিংসতার সরাসরি যোগসূত্র বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি।
সুত্রঃ ডেইলি মেইল