জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্য পদ চায় রাশিয়া।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।
ল্যাভরভের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারত ও ব্রাজিলের অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন করে। তার মতে, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করার অংশ হতে পারে।
তবে নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানি ও জাপানের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর অতিরিক্ত স্থায়ী আসনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে মস্কো। ল্যাভরভ দাবি করেন, এসব দেশ সামরিকবাদ ও প্রতিশোধপরায়ণতার পথে এগোচ্ছে। এটি রাশিয়ার বক্তব্য, যা ওই দেশগুলোর নিজস্ব অবস্থানের প্রতিফলন নয়।
একই সঙ্গে রাশিয়া বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার হলেও বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। রাশিয়ার ক্রেমলিনও সম্প্রতি জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদে নতুন স্থায়ী সদস্য যুক্ত করার বিষয়ে তারা সমর্থন করে, তবে বর্তমান ভেটো ব্যবস্থার পরিবর্তন চায় না।
ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে শুধু রাশিয়াই নয়, মরিশাসও সমর্থন জানিয়েছে। মরিশাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করে দেশটির স্থায়ী সদস্যপদের পক্ষে অবস্থান জানান। মরিশাসের ২০২৫ সালের জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যেও ভারতের স্থায়ী আসনের সমর্থনের কথা উল্লেখ ছিল।
বর্তমানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ১৫টি দেশ। এর মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য হলো চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। বাকি ১০টি আসন অস্থায়ী সদস্যদের জন্য নির্ধারিত। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের হাতে ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ নয়। সদস্যপদের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য জাতিসংঘ সনদ সংশোধন প্রয়োজন, যার ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়ে জাতিসংঘে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তঃসরকারি আলোচনা চলছে।
ভারত নিজেও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় ধরনের সদস্যপদ বাড়ানোর পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘে দেওয়া এক বক্তব্যে ভারত স্থায়ী সদস্যপদের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
তবে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। বিশেষ করে কোন দেশগুলো নতুন স্থায়ী সদস্য হবে, তাদের ভেটো ক্ষমতা থাকবে কি না এবং আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, এসব বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়নি।
ফলে রাশিয়া ও মরিশাসের সমর্থন ভারতের দাবিকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করলেও, নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য বৃহত্তর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন হবে। ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
সুত্রঃ এনডিটিভি