আইএস-সংশ্লিষ্ট নারী ও বিদেশি যোদ্ধাদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ওয়ান নেশনের সমর্থন চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর।
মেলবোর্ন, ০১আগস্ট: অস্ট্রেলিয়ায় আইএস-সংশ্লিষ্ট নারী, শিশু ও বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে কোয়ালিশনের প্রস্তাবিত আইনকে সমর্থন করার জন্য ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর। একই ইস্যুতে হ্যানসন নিজেও নতুন একটি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পর টেইলর এই আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটর হ্যানসন সম্প্রতি ২২ পৃষ্ঠার ‘প্রটেক্টিং অস্ট্রেলিয়ানস ফ্রম ফরেন টেরোরিস্ট ফাইটার্স বিল’ এবং এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা অন্যান্য ক্রসবেঞ্চ সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছেন। বিলটির মাধ্যমে বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’ জারি করে তাঁদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে আদালতে কোনো মামলা চলাকালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করা, সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জামিন পাওয়া কঠিন করা এবং এক্সক্লুশন অর্ডারের আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট আটকে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কাউকে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতে সহায়তা করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রয়েছে।

আইএস-সংশ্লিষ্ট নারী ও বিদেশি যোদ্ধাদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ওয়ান নেশনের সমর্থন চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর। ছবি : ফেসবুক
বৃহস্পতিবার অ্যাঙ্গাস টেইলর বলেন, সিরিয়ায় আইএস যোদ্ধাদের সঙ্গে যুক্ত নারী ও শিশুদের অস্ট্রেলিয়ায় ফিরিয়ে আনা ঠেকাতে কোয়ালিশন কয়েক মাস ধরে তাদের নিজস্ব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। তাদের পরিকল্পনায় কোনো তৃতীয় পক্ষের সহায়তায় প্রত্যাবাসন নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।
টেইলর বলেন, কোয়ালিশনের বিল ইতোমধ্যে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে এবং ওয়ান নেশনসহ অন্য দলগুলো চাইলে এখনই সেটিকে সমর্থন করতে পারে।
তিনি বলেন, “পরিকল্পনাটি এখন পার্লামেন্টের সামনে রয়েছে। আমি ওয়ান নেশনকে চিঠির জবাব দিয়েছি এবং তাদের এই আইনকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছি। এটি প্রস্তুত রয়েছে এবং কিছুদিন আগেই পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়েছে।”
তবে ন্যাশনালসের সম্মুখসারির নেতা ব্রিজেট ম্যাকেঞ্জি বলেন, বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আইন শক্তিশালী করতে ক্রসবেঞ্চের প্রস্তাবকে বিরোধী দল স্বাগত জানালেও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়নের মূল দায়িত্ব সরকারের।
তিনি বলেন, সরকার সলিসিটর-জেনারেল, স্বরাষ্ট্র বিভাগ এবং অন্যান্য সংস্থার প্রশিক্ষিত আইনজীবীদের সহায়তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রস্তুত করতে পারে।
ম্যাকেঞ্জির মতে, বিদ্যমান আইনের আওতায় সরকার পাসপোর্ট বাতিল, ভ্রমণ নথি দিতে অস্বীকৃতি অথবা নথি প্রদানে বিলম্ব করার মতো ব্যবস্থা নিতে পারে। তাঁর অভিযোগ, আইএস-সংশ্লিষ্ট নারীদের অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে লেবার সরকার এসব বিকল্প যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি।
কোয়ালিশনের প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক মুখপাত্র ফিল থম্পসন বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে বিরোধী দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আইএস সমর্থক ও বিদেশি যোদ্ধাদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যাবর্তন বন্ধে কার্যকর বিকল্প নীতি উপস্থাপন করা।
ওয়ান নেশনের বিল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, বিদেশে গিয়ে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করা ব্যক্তিদের প্রতি কারও সহানুভূতি নেই। তবে হ্যানসনের প্রস্তাবিত আইনকে সমর্থন করবেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলবানিজ জানান, লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই আইএসের সঙ্গে যুদ্ধ করা ৪৫ জন পুরুষ অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্বের কারণে সংবিধানের অধীনে কিছু নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে এবং সরকার আইনসঙ্গতভাবে যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে এসব ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো সহায়তা দেবে না।
সরকারের দাবি, অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা আইএস-সংশ্লিষ্ট নারী ও শিশুদের প্রত্যাবর্তনে তারা কোনো সহযোগিতা দেয়নি। তাদের অনেকেই বর্তমানে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র একজনের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের পরামর্শে একটি ‘টেম্পোরারি এক্সক্লুশন অর্ডার’ জারি করা হয়েছে।
-news.com.au