অপ্রতিম হত্যা: আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
আইফোনের লোভেই কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। জবানবন্দি…
রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কে রয়েছেন বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, শনিবার সকালে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে বাড়ির গেটে হামলা চালায় এবং নিরাপত্তা ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। হামলার পর থেকে আবারও বাড়িটি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের।
শ্যামলী হাউজিং এলাকার ৪১ ও ৪২ নম্বর বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। তাঁর ভাতিজা মনির হোসেন রোববার সমকালকে বলেন, শনিবার সকালে অস্ত্রসহ কয়েকজন বাড়ির গেটে হামলা চালানোর পর থেকেই তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন। কখন আবার কী ঘটে, সেই আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় কাজেও বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন তাঁরা।
মনির হোসেনের ভাষ্য, হামলাকারীদের মধ্যে তিন থেকে চারজন মুখোশ পরা ছিল। তারা প্রথমে বাড়ির গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গেটে কোপাতে থাকে। পরিস্থিতি দেখে বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়া নিচে নেমে এলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এসে টাকা দাবি করে এবং বাড়ি খালি করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তারা কীভাবে বাড়িতে থাকা হচ্ছে, তা দেখিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়। এর আগে প্রায় দুই মাস আগে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন এসে একইভাবে হুমকি দিয়ে গিয়েছিল বলেও দাবি করেন মনির।
হামলার পর বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি। তবে ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রোববার আদাবর থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা বাড়িতে আসায় কিছুটা সাহস পাচ্ছেন বলে জানান মনির হোসেন।
বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা জানালার কাচ ভাঙচুর করছে। ইটের টুকরা দিয়ে দোতলার আরও দুটি জানালার কাচও ভেঙে ফেলা হয়। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে হামলাকারীরা প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল। মনির হোসেন জানান, ওই বছরের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। এ ঘটনায় আদাবর থানায় অভিযোগ করা হলেও তখন কোনো সমাধান হয়নি। পরে তাঁরা আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই তদন্ত করে। গত ১২ মার্চ তাঁরা বাড়িটির দখল ফিরে পান।
তবে দখল ফিরে পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। শনিবারের হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
হামলার পর পুলিশ বাড়িটির বিষয়ে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে বলেও জানান তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাড়ির মালিকের স্বজনরা। সম্প্রতি আদাবর থানার ওসি ওই বাড়ির সামনে গিয়ে ভিডিও করার বিষয়টিও তাঁদের নজরে এসেছে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদাবরে বাড়ি দখল এবং অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে দেরি করেছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। কয়েক দিন আগে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেও ওই বাড়ির সামনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, তদন্তের প্রয়োজনে বাড়িটির সামনে গিয়ে ভিডিও করা হয়েছিল এবং তাঁর পুলিশিংয়ের ধরন কিছুটা আলাদা।
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। তবে হামলার পর বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au