অপ্রতিম হত্যা: আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
আইফোনের লোভেই কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। জবানবন্দি…
যশোরে স্কুলছাত্রী শিপ্রা ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় ইসকনের আট সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শিপ্রার ভাই পাপন কুমার ঘোষ বাদী হয়ে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এম এ গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাস (৪০), সাধন অধিকারী (৫৮), রাম অধিকারী (৫৫), অর্জুন দাস, পার্থ দাস, পবিত্র, সঞ্জয় ও রঘু। মামলায় তাঁদের ইসকনের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে শিপ্রাকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আসামিপক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীন তদন্তে এখনো যাচাই করা হয়নি। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে অনুপম রায় অন্যদের সহযোগিতায় শিপ্রাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাপন কুমার ঘোষ ও তাঁর ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় শিপ্রাকে মারধর ও হয়রানি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর চিৎকার শুনে মা এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে শিপ্রাকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর অনুপম রায়সহ কয়েকজন তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং মরদেহ ওড়না দিয়ে ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
পরে পাপন কুমার ঘোষ ও তাঁর ভাই বাড়িতে ফিরে শিপ্রাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এদিকে, মামলার অভিযোগে ইসকনের সদস্যদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সংগঠনটির স্থানীয় অবস্থান ও বক্তব্যও সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ঘটনায় ইসকনের পক্ষ থেকে কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে কি না, কিংবা ঘটনাটির সঙ্গে সংগঠন হিসেবে ইসকনের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা মামলার অভিযোগ দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক সংগঠনের অবস্থানকে একই বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল মামলাটি গ্রহণ করে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনসহ আদালতে দাখিলের জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, আদালত থেকে মামলাসংক্রান্ত কোনো আদেশ এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদেশ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
মামলার অভিযোগের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই শিপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au