অপ্রতিম হত্যা: আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
আইফোনের লোভেই কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। জবানবন্দি…
ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে কৌশলে পালিয়ে গেছে ২৫ মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়া আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মোতালেব।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করার জন্য প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আদালতে হাজিরা শেষে তাঁকে একই ভ্যানে করে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে রাজা প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলেন। পরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে একটি শৌচাগারে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর কৌশলে পুলিশ সদস্যদের নজর এড়িয়ে রাজা পালিয়ে যান বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর তাঁকে আটক করতে সংশ্লিষ্ট থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেছেন। তবে পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্যমতে, রাজা ওরফে পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পুলিশের কাছে পরিচিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানার একটি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৯ মে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের কাছে খবর ছিল, পিচ্চি রাজা, তাঁর স্ত্রী ও শ্যালক নেপাল থেকে দেশে ফিরেছেন। পরে পুলিশ বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁদের আটক করে।
গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলছিল। এরই মধ্যে আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে ফেরার পথে শৌচাগারে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে থাকা একজন আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au