ধানমন্ডির ‘সুধা সদনে’ যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা শেখ হাসিনার সাবেক বাসভবন ‘সুধা সদন’ থেকে মো. শাকিল (২২) নামে…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট। সাগরের লোনাজলে গোসল করছিলেন এক পর্যটক। হঠাৎ স্রোতের টানে তিনি সমুদ্রের গভীরে চলে যান। মুহূর্তেই তৈরি হয় আতঙ্ক। বিষয়টি নজরে আসে সি-সেইফ লাইফগার্ডের এক সদস্যের। কোনো বিলম্ব না করে উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ছুটে যান তিনি। দক্ষতার সঙ্গে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ওই পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন লাইফগার্ড।
তবে এটি বাস্তব কোনো দুর্ঘটনার দৃশ্য নয়; ছিল লাইফগার্ডদের উদ্ধার মহড়ার অংশ। বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে এমনই একটি উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সি-সেইফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে চলতি সময় পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পানিতে ডুবে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে লাইফগার্ডদের তৎপরতায় ১ হাজার ৪৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক আসেন। সমুদ্রের ঢেউ, নোনা জল আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মেতে ওঠেন তারা। কিন্তু এই আনন্দের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সাগরের ভয়ংকর রিপ কারেন্ট বা স্রোতের ঝুঁকি। অনেক পর্যটক সাগরের স্রোতের গতিপথ ও বিপদ সম্পর্কে না জানায় মুহূর্তেই বিপদে পড়ে যান।
পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রতিনিয়ত জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করছেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা। উত্তাল ঢেউ, প্রবল স্রোত কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি কোনো কিছুই তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্য ইউসুফ আলী বলেন, সমুদ্রে গোসল করতে নেমে অনেক পর্যটক পানির গভীরতা ও স্রোতের গতিপথ সম্পর্কে না জেনেই দূরে চলে যান। এতে তারা বিপদে পড়েন। পর্যটকদের নিরাপদে গোসল করতে এবং লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে লাইফগার্ডদের।
সি-সেইফ প্রকল্পের ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার হাফেজ আহমেদ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে সি-সেইফ প্রকল্প। বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী এই তিনটি পয়েন্টের মাত্র তিনটি ওয়াচ টাওয়ারে দুই শিফটে ২৭ জন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় বর্তমান জনবল পর্যাপ্ত নয়। একই সঙ্গে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামেরও সংকট রয়েছে। অনেক সময় পর্যাপ্ত লাইফ সেভিং ইকুইপমেন্ট ছাড়াই উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার অভিযান চালাতে হয় লাইফগার্ডদের। তারপরও মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব থেকে তারা কখনো পিছিয়ে যান না।
সি-সেইফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, পর্যটকদের অসচেতনতার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। অনেকেই সতর্কবার্তা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলে যান। কেউ কেউ লাইফগার্ডের নির্দেশনা না মেনে সাগরের গভীরে চলে যান। এ কারণে পর্যটকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সমুদ্রে গোসল করতে আসা পর্যটক ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির আহমেদ ওসমানী বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এসে অনেকেই আনন্দ করতে গিয়ে নিরাপত্তার বিষয়টি ভুলে যান। কিন্তু সমুদ্র দেখতে যতটা সুন্দর, ততটাই ভয়ংকর হতে পারে। তাই সাগরে নামার আগে সতর্ক হওয়া, লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, পর্যটকদের নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরও নিতে হবে। একটু সচেতন হলেই অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা লাইফগার্ডদের আরও আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল দেওয়া প্রয়োজন।
শনিবার ২৫ জুলাই ছিল বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস। ‘আসুন সকলে মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুস্রোত বদলে দেই’ এই প্রতিপাদ্যে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) পরিচালিত সি-সেইফ প্রকল্পের উদ্যোগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে দিবসটি পালন করা হয়।দিবসটি উপলক্ষে লাইফগার্ড সদস্যদের উদ্ধার কার্যক্রম ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদর্শনী, সচেতনতামূলক র্যালি এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু লাইফগার্ডদের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। সাগরে নামার আগে সতর্কতা, লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসল না করার মতো কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই কমানো সম্ভব পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au