শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণ, কয়েকটি সহজ সুযোগ এবং ক্রসবারে বল লাগার পরও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসছিল…
নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে পর্তুগাল। তবে ম্যাচটির অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকা। পর্তুগালের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছিল সর্বশেষ ২০০৮ সালে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পর্তুগালের একাদশে না দেখা নতুন কিছু নয়। কিন্তু একাদশের বাইরে রাখার পরও পুরো ম্যাচে মাঠে না নামানো, সেটিই দীর্ঘদিন পর দেখা গেল।
রোববার উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে একাদশে রাখেননি কোচ জর্জ জেসুস। ম্যাচের শেষ দিকে তাঁকে ওয়ার্মআপ করতেও দেখা যায়। তাই ধারণা করা হচ্ছিল, কিছু সময়ের জন্য হলেও মাঠে নামবেন পর্তুগাল অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুরো ম্যাচই কাটে বেঞ্চে।
রোনালদোর জায়গায় শুরু করা গনসালো রামোসই শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের জয়সূচক গোলটি করেন। জোয়াও ফেলিক্সের গোলে ১৭ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এরলিং হলান্ড নরওয়েকে সমতায় ফেরান। তিন মিনিট পর নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিলান্ডের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করে পর্তুগালকে আবার এগিয়ে দেন রামোস।
পর্তুগালের হয়ে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্কোয়াডে থেকেও পুরো সময় বেঞ্চে কাটানো রোনালদোর সর্বশেষ অভিজ্ঞতা ২০০৮ সালের ইউরোতে। সেবার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি মাঠে নামেননি। তবে সেই ম্যাচের আগেই পর্তুগালের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
এরপর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন পরিস্থিতি আবার দেখা যায় ২০২৪ সালে। ৮ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে রোনালদো পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন। তবে সেটি ছিল প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ। এবারের নরওয়ে ম্যাচটি ছিল প্রতিযোগিতামূলক নেশনস লিগের।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে অবশ্য রোনালদো এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেছিলেন। ফলে নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাঠে না নামার ঘটনাটি তাঁর জন্য আলাদা করে আলোচনায় এসেছে।
রোনালদোকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত যে চোট বা শারীরিক সমস্যার কারণে নয়, তা ম্যাচের পর পরিষ্কার করেছেন জেসুস। তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল মূলত কৌশলগত।

নরওয়ের বিপক্ষে পুরোটা সময় বেঞ্চে ছিলেন রোনালদো। রয়টার্স
জেসুস জানান, ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টায় রোনালদোকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা তাঁর ছিল। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন করেননি তিনি।
রামোসের পারফরম্যান্সই ছিল এর অন্যতম কারণ। রোনালদোর জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া এই ফরোয়ার্ড গোল করার পাশাপাশি আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন, যদিও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ফলে তাঁকে তুলে রোনালদোকে নামানোর প্রয়োজন দেখেননি পর্তুগাল কোচ।
শেষ দিকে নরওয়ে সমতা ফেরানোর জন্য চাপ বাড়ালে জেসুস আক্রমণভাগে রোনালদোকে নামানোর বদলে দলের ভারসাম্য ধরে রাখাকে গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, তখন মাঠে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের একজন খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল।
৪১ বছর বয়সী রোনালদোর খেলার সময় কমিয়ে আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাঁকে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল কি না, ম্যাচের পর এমন প্রশ্নও ওঠে।
তবে জেসুসের বক্তব্য, এর অর্থ রোনালদো দলের পরিকল্পনার বাইরে চলে গেছেন, এমন নয়। বরং পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তাঁকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর নেশনস লিগে দুই ম্যাচে পর্তুগালের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ছয়। এর আগে তারা ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল।
পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ ডেনমার্কের বিপক্ষে, ১ অক্টোবর। সেখানে রোনালদো আবার একাদশে ফিরবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au