জামায়াতের উত্থান দেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে: নুরুল হক নূর
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং দেশের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…
পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এবার সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি নেতা আব্বাস বেগের বিরুদ্ধে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের দাউদপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। তবে পাল্টা সিপিআই প্রার্থী ও তাঁর দলবলকে মারধরের অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতাও। এ ঘটনায় দুই পক্ষই নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় দাউদপুরের একটি মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। অভিযোগ, প্রচারের সময় তাঁর ওপর চড়াও হন বিজেপি নেতা আব্বাস বেগ। একপর্যায়ে তাঁকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন শান্তিগোপাল। এতে তাঁর জামা-প্যান্ট ছিঁড়ে যায় এবং পায়ে আঘাত লাগে।
ঘটনার পর রাতে নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে আব্বাস বেগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন শান্তিগোপাল গিরি। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার পর দলীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শান্তিগোপাল বলেন, তাঁর বুথ এলাকায় কেন প্রচারে গিয়েছেন, সেই প্রশ্ন তুলে আব্বাস বেগ তাঁকে মারধর করেন। হামলার সময় তিনি প্রায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন। পরে দলীয় কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
তবে সিপিআই প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা আব্বাস বেগ। তাঁর দাবি, দাউদপুরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে শান্তিগোপাল গিরি ধর্মের নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভ্রান্ত করছিলেন। এর প্রতিবাদ করতেই সিপিআই প্রার্থী ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন বাঁশ নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্বাস বেগের দাবি, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মারধরের কারণে তাঁর মাথা ফেটে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনিও নন্দীগ্রাম থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দুই পক্ষের অভিযোগের কারণে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হামলার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।
শান্তিগোপাল গিরি পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে আব্বাস বেগের দাবি, রাজনৈতিক প্রচারের নামে ধর্মীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল এবং তার প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে বিধানসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটের আগে এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে পুরোনো একটি মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে হামলা ও প্রচারগাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা ও প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসছে। এসব ঘটনায় ভোটের আগে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিপিআই প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ এবং তার পাল্টা বিজেপি নেতার ওপর হামলার অভিযোগের পর নন্দীগ্রামের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। নির্বাচনের আগে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা উত্তেজনা না ছড়ায়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au