জামায়াতের উত্থান দেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে: নুরুল হক নূর
জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশকে ধর্মযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং দেশের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান…
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চার মাসের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় ফেরার দিনই তার এ সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি সফরের নির্দিষ্ট কারণ বা সেখানে তার বৈঠকের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৮ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়েন ক্রিস্টেনসেন। ফ্লাইটটির গন্তব্য ছিল নয়াদিল্লি। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী, ঢাকা থেকে নয়াদিল্লির এই ফ্লাইটের নির্ধারিত ছাড়ার সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিট এবং দিল্লিতে পৌঁছানোর সময় স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট।
এটি গত চার মাসে ক্রিস্টেনসেনের তৃতীয় নয়াদিল্লি সফর। এর আগে তিনি জুলাইয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের ভারতে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এবং চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিল্লি সফরের আগে নয়াদিল্লি গিয়েছিলেন।
ক্রিস্টেনসেনের এবারের সফর এমন এক দিনে হলো, যেদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন। ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পর দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। তার সঙ্গে ৩১ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল ছিল। তারা এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
নয়াদিল্লি সফরে ক্রিস্টেনসেনের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভারতে নিযুক্ত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোর একই সঙ্গে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ক্রিস্টেনসেনের সফরসূচি বা সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গত জুলাইয়ে গোর বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। সে সময় ক্রিস্টেনসেনও তার সঙ্গে ছিলেন। সফরে গোর বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ক্রিস্টেনসেনকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে গোর বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
দিল্লি যাওয়ার আগে বাংলাদেশে ক্রিস্টেনসেনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কার্যক্রম হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার সেনাসদরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ক্রিস্টেনসেন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেন।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর ইনভেস্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্রিস্টেনসেনের বাংলাদেশ সফর ও বৈঠকে শুধু বাণিজ্য নয়, নিরাপত্তা, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পেয়েছে।
জুনে তিনি রাজশাহী সফর করেন এবং সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি পরিদর্শন করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত পুলিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে তিনি সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। সেখানে অভিবাসন প্রক্রিয়া ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে তৎকালীন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ক্রিস্টেনসেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, অভিবাসন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো, রোহিঙ্গা সংকট, মার্কিন বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তৎপরতায় কয়েকটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।
তার এই ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার দিন দিল্লি যাত্রা নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ক্রিস্টেনসেনের সফরটি তারেক রহমানের সফর বা দেশে ফেরার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচনা ও অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au