শেষ মুহূর্তের গোলে বেলজিয়ামকে হারিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স
বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণ, কয়েকটি সহজ সুযোগ এবং ক্রসবারে বল লাগার পরও কাঙ্ক্ষিত গোলটি আসছিল…
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির জন্য আবেদন করার ঘোষণা দেওয়ার পরই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মামলায় হামাসের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক এবং কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) নিয়ে আঙ্কারার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। তুরস্ক সরকার ও পিকেকের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটেও এসব বিষয়কে আইনি অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি পক্ষের অভিযোগ, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন সরকার হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে এবং সংগঠনটির প্রতি রাজনৈতিক ও অন্যান্য ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে তুরস্ক হামাসের সঙ্গে তার সম্পর্ককে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করে এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে আসছে।
সম্ভাব্য মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিতে তোলার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে ইসরায়েল সরাসরি আইসিসিতে যাবে, নাকি অন্য কোনো দেশের মাধ্যমে বিষয়টি আদালতে উত্থাপনের চেষ্টা করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসরায়েল ও তুরস্ক দুটিই রোম সংবিধির সদস্য নয়। ফলে তুরস্কের ভূখণ্ডে সংঘটিত কথিত অপরাধের বিষয়ে আইসিসির এখতিয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য আলাদা আইনি ভিত্তি প্রয়োজন হতে পারে। কোনো দেশ অভিযোগ তুললেই আইসিসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই বিষয়ে বিচারিক এখতিয়ার পেয়ে যায় না।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুরস্কের নেওয়া আইনি পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটেই এরদোয়ানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তুরস্ক এর আগে গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি অভিযানের ঘটনায় নেতানিয়াহুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।
তুরস্কের অভিযোগ, গাজার উদ্দেশ্যে যাওয়া ওই বহরের ওপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান চালিয়ে যাত্রীদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন, বেআইনিভাবে স্বাধীনতা হরণ এবং অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তুরস্ক জানিয়েছে।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অবশ্য নিজে কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের অধীনে সাময়িকভাবে আটক করার জন্য বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার কাছে পাঠানো একটি আন্তর্জাতিক সতর্কতা। রেড নোটিশ জারি হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে বাধ্যতামূলকভাবে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে হয় না।
অন্যদিকে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ওই পরোয়ানা জারি করা হয়। ইসরায়েল আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং নেতানিয়াহু অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
এরদোয়ান ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাকে স্বৈরাচারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে হামাসের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা সমালোচনা থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করছেন। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। ইসরায়েল অবশ্য এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।
এদিকে তুরস্ক ও পিকেকের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়াও এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মামলার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পিকেকেকে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরে পিকেকের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংঘাত চলে আসছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নেতানিয়াহুর নির্দেশের পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এরদোয়ানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ভিত্তি, অভিযোগের ধরন এবং কোন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
তবে এখনো এরদোয়ানের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। কোন আদালতে মামলা করা হবে, কী অভিযোগ আনা হবে এবং আদৌ সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত পর্যন্ত গড়াবে কি না, সে বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে বিষয়টি আপাতত আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পর্যায়েই রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au