পোল্যান্ডের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন ভূপাতিত, ন্যাটো ও বিশ্বনেতাদের নিন্দা , ছবিঃ এবিসি
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিমান হামলার সময় তাদের আকাশসীমায় একাধিকবার প্রবেশ করা সন্দেহভাজন ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। তিনি এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংঘাতের ঝুঁকি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
টাস্ক বলেন, “এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমাদের খোলা সংঘাতে জড়ানোর সবচেয়ে কাছাকাছি পরিস্থিতি। তবে আমি মনে করি না আমরা যুদ্ধের একেবারে দোরগোড়ায়।”
তিনি আরও জানান, ন্যাটো চুক্তির ধারা ৪ সক্রিয় করা হয়েছে, যাতে আকাশসীমা লঙ্ঘিত হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারে।
পোল্যান্ডের প্রতিক্রিয়া
- পোল্যান্ড দাবি করেছে, রাশিয়ার ইউক্রেনবিরোধী হামলার সময় ১৯টি ড্রোন জাতীয় বস্তু তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
- এর মধ্যে হুমকি তৈরি করা ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়।
- নিরাপত্তা বৈঠকের পর টাস্ক ঘটনাটিকে “রাশিয়ার আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ড” বলে উল্লেখ করেন।
- পূর্বাঞ্চলীয় চার প্রদেশে সেনাদের জরুরি ডিউটি রিপোর্টিং সময় ৬ ঘণ্টায় নামানো হয়েছে।
- ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
- লুবেলস্কি প্রদেশে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ড্রোন পাওয়া গেছে।
- পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়ারশ চোপিন ও রেজজোভ–ইয়াসিওঙ্কা বিমানবন্দরসহ চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
ন্যাটো ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে পোলিশ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে আছেন।
- ন্যাটোর সূত্র জানায়, ঘটনাটিকে “ইচ্ছাকৃত অনুপ্রবেশ” হিসেবে দেখা হচ্ছে, সরাসরি হামলা হিসেবে নয়।
- অভিযানে অংশ নেয় পোলিশ F-16, ডাচ F-35, ইতালির AWACS নজরদারি বিমান এবং ন্যাটোর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া একযোগে ৪১৫ ড্রোন ও ৪০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ১৫টি অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে।
তার দাবি, ওই হামলার অন্তত ৮টি ড্রোন পোল্যান্ডে আঘাত হানে।
জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, “রাশিয়াকে অবশ্যই এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। যুদ্ধ আর সম্প্রসারিত হতে দেওয়া যাবে না।”
আন্তর্জাতিক নিন্দা
- ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ড্রোন অনুপ্রবেশকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলেছেন।
- চেক প্রধানমন্ত্রী পেত্র ফিয়ালা বলেন, এটি ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর সরাসরি আঘাত।
- মার্কিন সিনেটর ডিক ডারবিন মন্তব্য করেন, “পুতিন আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করছে।”
- রিপাবলিকান প্রতিনিধি জো উইলসন এটিকে “পোল্যান্ডের ওপর সরাসরি হামলা” এবং “যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য” বলে অভিহিত করেন।
মস্কো ও মিনস্কের প্রতিক্রিয়া
- রাশিয়া দায় অস্বীকার করে বলেছে, ড্রোনগুলো ইউক্রেনের দিক থেকে এসেছে।
- বেলারুশ দাবি করেছে, তাদের বিমানবাহিনী দিকভ্রান্ত ড্রোন শনাক্ত করে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়াকে আগেই সতর্ক করেছিল।
ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটেছে, যখন পোল্যান্ডের নতুন জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরকি সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুধু ইউক্রেন নয়, অন্যান্য দেশেও হামলার পরিকল্পনা করছেন।
তিনি বলেন, “এটি ন্যাটোর ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্ত।”
সূত্রঃ এবিসি