সমাধানের পথ নেই, বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি
মেলবোর্ন, ০৭ মার্চ- ইরানের সাথে ইসরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের যুদ্ধে বাংলাদেশ নেই। কিন্তু সেই যুদ্ধের রেশ সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে পড়েছে বাংলাদেশ তার…
ঢাকা, ৮ জুলাই-
প্রশাসনের স্থবিরতাকেই দেশে ‘মব কালচার’-এর প্রকোপ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বর্তমানে দেশে নানাবিধ সামাজিক অপরাধের প্রকাশ ঘটছে এবং এর মূল কারণ প্রশাসনিক স্থবিরতা। অবৈধ কালো টাকা ও গোপন অপতৎপরতার কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই অপপ্রচার ও অশান্তি আসলে গণতন্ত্রের পথচলাকে ব্যাহত করা ও নির্বাচন পেছানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই অংশ।
রিজভী বলেন, ‘‘শেখ হাসিনার আমলে যেমন অদ্ভুত উন্নয়নের বয়ান শোনা যায়, তেমনি এখন নির্বাচন পেছানো নিয়েও নানা বয়ান দেওয়া হচ্ছে।’’
তিনি জানান, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্মে জড়িত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে বহিষ্কার, অব্যাহতি, পদ স্থগিত বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে এসব বিষয় তেমনভাবে উঠে আসছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঢিলেঢালা ও রহস্যজনক ভূমিকার কারণে অপরাধীরা শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনকে বারবার আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হলেও প্রশাসন তাতে সাড়া দিচ্ছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয়নি, বরং কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কলকাঠি নাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই অবস্থায় সমাজের সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন ও রাষ্ট্র-সমাজে স্থিতির জন্য দক্ষ প্রশাসন জরুরি। কিন্তু আওয়ামী শাসনামলে কালো টাকা আর ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ তৎপরতার কারণে দুস্কৃতিকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে, যার ফলে সমাজে নৈরাজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।’’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি বড় রাজনৈতিক দল। সমাজবিরোধী, দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের কোনো স্থান এই দলে নেই। কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দল অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ন্যায়বিচার, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই যোগ্যতা, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষদের গুরুত্ব দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যা সমাজের ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঢিলেঢালা ভূমিকা এবং সামাজিক অসহিষ্ণুতার কারণে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর উসকানিও অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নমত দমন বা প্রতিপক্ষকে হেনস্তা করতে এই সহিংসতাকে কাজে লাগাচ্ছে। এর ফলে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের জীবন, সম্পদ ও মৌলিক অধিকার, যা একটি সুস্থ ও সুশাসনভিত্তিক সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au