রংপুরের চার খুন: অমীমাংসিত প্রশ্ন
একটি তালাবদ্ধ বাড়ি। কয়েক দিন ধরে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। এক পর্যায়ে আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। পুলিশ এসে তালা ভাঙার পর…
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের ‘প্রভাবশালী মহলের’ মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রভাবশালী সূত্র।
নর্থইস্ট নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং তিনি কী মর্যাদা বা অবস্থানে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়েও একটি রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তারা। তাদের ভাষ্য, কয়েক মাসের আলোচনা শেষে শেখ হাসিনার ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত একজন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলে বলেন, “শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি। তাহলে কোন দেশের বিমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে গিয়েছিল?”
সম্প্রতি ঢাকায় শেখ হাসিনাকে নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা যখন ভারতে যান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি C-130A হারকিউলিস উড়োজাহাজে শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভারত তখন বাংলাদেশের ‘প্রধানমন্ত্রীকে’ আশ্রয় দিয়েছিল।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমঝোতার প্রশ্ন
এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রশ্নের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ‘সমঝোতা’ও কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেছেন কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলো।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এমন একটি চিন্তা বিস্তৃত হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ কারণে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগে দুই দলের মধ্যকার বিরোধ কমিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে।
তবে সেই সমঝোতা সম্ভব না হলে দেশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক শাসনের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
সূত্রগুলোর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে একটি বিষয় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেটি হলো, দেশে ফেরার সময় তাঁর পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে ‘বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী’।
তবে তিনি ঠিক কবে বাংলাদেশে ফিরবেন, সেই তারিখ এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লিতে ত্রিবেদীর আকস্মিক সফর
এর মধ্যেই ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় পূর্বনির্ধারিত সূচি ছাড়াই দিল্লি সফরে যান ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন এবং তাঁর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি ‘বিশেষ বার্তা’ নিয়ে গেছেন।
ভারতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। তবে শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলায় এর আগে কূটনৈতিক যোগাযোগে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল বলে সূত্রগুলোর দাবি।
পরবর্তী সময়ে ঢাকা থেকে ভারতের কাছে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়েছিল, এমন পরিবেশ তৈরি হলে তারেক রহমান ভারত সফর করতে পারেন।
তবে এবার তারেক রহমান কোনো ‘শর্ত’ ছাড়াই ভারত সফরে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সেনাপ্রধানকে সরানোর চেষ্টা ব্যর্থ?
এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিএনপি সরকারের একটি অংশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের একটি অংশ ওই প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সূত্রের দাবি।
তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ‘কমফোর্টেবল’ বা আস্থাভাজন মনে করেন এবং সেনাপ্রধানেরও সেনাবাহিনীর ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে বলে সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে।
ভারতের হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্য থেকেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টিকে ভারত বর্তমানে একটি কাঠামোবদ্ধ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
সুত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au