রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, অক্ষত অজিত কুমার
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা অজিত কুমার ইউরোপের একটি রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। হাই-স্পিড এন্ডুরেন্স রেস চলাকালে তার রেসিং কারে যান্ত্রিক…
মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক হিন্দু শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। বাড়ির ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। বিশেষ করে সিঁড়িতে পড়ে থাকা মা ও মেয়ের মরদেহের দৃশ্য বর্ণনা করতেও ভয় পাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার ওই বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের সবার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মরদেহগুলো কয়েক দিন আগের হওয়ায় পচন ধরেছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

হিন্দু শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার। ছবিঃ সংগৃহীত
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছুয়াপাড়ার ওই বাড়িটি কয়েক দিন ধরে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়া এবং আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ভেতরে ঢুকে পুলিশ দেখতে পায়, বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকা পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ পড়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়িতে ছিল বলে স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। মরদেহের অবস্থা দেখে ঘটনাস্থলে থাকা অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
রংপুর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আবু হাসান কবির চারজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুরো ভবনে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রংপুর সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে মনে হচ্ছে। তাঁর ধারণা, তিন থেকে চার দিন আগে ঘটনাটি ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, বাড়িটির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার বিভিন্ন জায়গা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘরের আলমারি ও অন্যান্য স্থানে ভাঙচুরের চিহ্নও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে গলায় রশি বা গামছা পেঁচিয়ে হত্যার বিষয়টিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মরদেহগুলো তিন থেকে চার দিন আগের হওয়ায় ইতোমধ্যে পচন ধরেছে। ফলে ঘটনাস্থল থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। তবে চারজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বাড়ির বিভিন্ন স্থানে টাকা-পয়সা ও গহনা রাখার জায়গাগুলোর তালা ভাঙা পাওয়ায় ডাকাতির সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তবে ডাকাতির ঘটনা ঘটলে এর সঙ্গে পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর সম্পর্ক কী, তাঁরা কীভাবে এবং কখন মারা গেলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

হিন্দু শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার। ছবিঃ সংগৃহীত
এ ঘটনায় পরিবারের স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। কয়েক দিন আগেও যে বাড়িতে একটি পরিবার বসবাস করত, সেখানে এখন পড়ে আছে চারটি মরদেহ। এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।লাশের বর্ণনা দিতে গিয়েও শিউরে উঠছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি ডাকাতির সময় কোনো সংঘর্ষের জেরে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের শরীরে থাকা আঘাতের ধরন, মরদেহের অবস্থান, ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি এবং মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তদন্তকারীরা বলছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পরই চারজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au