বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং অনেক ভবন ধসে পড়ে। ছবিঃ এএফপি
মেলবোর্ন, ১১ সেপ্টেম্বর- ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আল-জাওফ প্রদেশে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩১ জন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে অনেকে আটকে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। বুধবার এই হামলা চালানো হয়। এর একদিন আগে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, সানার আল-তাহরির এলাকার আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের সরকারি কমপাউন্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং অনেক ভবন ধসে পড়ে। হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল সানার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি মেডিকেল সেন্টার এবং আল-হাজমে স্থানীয় সরকারি কার্যালয়। বহু সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে জানান, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। তারা একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি হামলার মোকাবিলা করেন। তার দাবি, কিছু ইসরায়েলি বিমান অস্ত্র ব্যবহার করার আগেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল হুথিদের সামরিক ঘাঁটি, সামরিক জনসংযোগ সদর দপ্তর এবং একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, রামন বিমানবন্দরে হুথিদের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আঘাত হানা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা ইসরায়েলকে আক্রমণ করবে, তাদের খুঁজে বের করে জবাব দেওয়া হবে।
ইয়েমেন বহু বছর ধরে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতে দেশটির মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের নতুন হামলায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে, রক্তের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, ইয়েমেনে নতুন করে বিমান হামলা দেশটির নাজুক মানবিক পরিস্থিতিকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।
সুত্রঃ আল জাজিরা