বাংলাদেশ

ফেসবুকে ‘TMD’ ক্যাম্পেইন: হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার নতুন রূপ উন্মোচন

  • 1:16 pm - November 04, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২৯৬ বার
ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৪ নভেম্বর- বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাম্প্রতিক সময়ে ‘TMD’ নামের এক বিতর্কিত হ্যাশট্যাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা প্রথমে হাস্যরসাত্মক বা সাংকেতিক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরে তা ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি ঘৃণামূলক প্রচারণায় রূপ নেয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হ্যাশট্যাগের পূর্ণরূপ “Total Malaun Death”- যা মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যার আহ্বান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রথম দিকের পোস্টগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ফেসবুক ব্যানার আপলোড ছিল, যেখানে “Total Mishti Distribution” নামে ব্যঙ্গাত্মক একটি শিরোনাম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দ্রুতই এই সংক্ষিপ্ত রূপটি বিকৃত অর্থে ছড়িয়ে পড়ে। দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর সঙ্গে যুক্ত অনেক প্রোফাইল পূর্বে থেকেই উগ্র বা ঘৃণামূলক কনটেন্টে যুক্ত ছিল।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, আলিফ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই হিন্দুদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে #TMD হ্যাশট্যাগটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী এই ট্যাগে পোস্ট করেছেন, যার একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভারত থেকে এসেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল চট্টগ্রামে এক ইসকন ধর্মগুরুর গ্রেফতার ও পরবর্তী আদালতপাড়ার সহিংসতার পর। ওই সহিংসতায় এক আইনজীবী নিহত হলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিশোধমূলক মন্তব্যের ঝড় ওঠে, আর সেই সময় থেকেই TMD হ্যাশট্যাগটি হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার প্রতীক হয়ে ওঠে।

পরে মুফতি মোহেব্বুল্লাহ মিয়াজীর নিখোঁজের ঘটনায় ইসকনবিরোধী প্রচারণা নতুন করে তীব্র হলে আবারও TMD হ্যাশট্যাগ সক্রিয় হয়। একাধিক বেনামী ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ‘Ban ISKCON’, ‘Total Malaun Death’ শিরোনামে কনটেন্ট প্রচার শুরু হয়। এসব পোস্টে টেক্সট, ভিডিও ও বক্তব্যের মাধ্যমে হিন্দুদের বিরুদ্ধে উসকানি ছড়ানো হয়।

তাছাড়া, ‘আরেকটি নোয়াখালী দরকার’ শিরোনামে পোস্টার, ব্যানার ও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে ১৯৪৬ সালের নোয়াখালী দাঙ্গার রেফারেন্স টেনে ঘৃণার আগুন ছড়ানো হয়। দ্য ডিসেন্টের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অন্তত দুই শতাধিক পোস্টে এই ঐতিহাসিক দাঙ্গার উল্লেখ করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেয়।

TMD পোস্টার নিয়ে শাপলা চত্বরে,ফেসবুক । ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা।
তারা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক প্রচারণা ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি, তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে, বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই ধরনের অনলাইন উগ্রতা কেবল একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

 

এই শাখার আরও খবর

শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত সরকারের

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়া শুরুর আগে…

রামেবির ভিসিকে ‘মব’ সৃষ্টি করে পদত্যাগ: বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হককে একদল মানুষ জোরপূর্বক ঘেরাও করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আব্দুস সালাম (৫৬)…

গণপতি পরিবার হত্যাকাণ্ড: দেড় মাসেও কাটেনি ভয়, এলাকায় নেই পূজার আমেজ

রংপুর নগরীর হিন্দু অধ্যুষিত মাছুয়াপাড়া মহল্লায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও একমাত্র ছেলেকে হত্যার ঘটনায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়…

সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, সংকুচিত হচ্ছে ওয়াকার-উজ-জামানের প্রভাব?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জারি করা একাধিক সীমিত-প্রচলন বা ‘রেস্ট্রিক্টেড’ বদলি ও পদায়নের আদেশ ঘিরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ক্ষমতা ও প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন…

চিত্রনায়ক শান্ত খানকে পিটিয়ে হত্যা, কী দোষ ছিল তার?

দুই বছর পর কবর থেকে উঠেছে চিত্রনায়ক শান্ত খান ও তার বাবা সেলিম খানের মরদেহ। আদালতের নির্দেশে বুধবার (৭ অক্টোবর) চাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের পারিবারিক…

রসায়নে নোবেল পেলেন ফ্রান্স-জাপানের দুই বিজ্ঞানী

রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের হেনরি বি. কাগান ও জাপানের কেনসো সোয়াই। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত জৈব সংশ্লেষণে স্ব-অনুঘটন বা অটোক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au