রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ১৬ নভেম্বর- রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকার জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে র্যাব এবং পুলিশের বর্ণনায় স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের দুটি আলাদা ব্যাখ্যা সামনে আসায় ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আশরাফুল হত্যার ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাঁর বন্ধু জরেজুল ইসলামকে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে র্যাব কুমিল্লার লাকসাম থেকে গ্রেপ্তার করে শামীমা আক্তারকে, যিনি আশরাফুল ও জরেজ উভয়ের পরিচিত।
ডিবির দাবি, ঘটনাটি ত্রিভুজ সম্পর্কের জটিলতায় রূপ নেয়। মালয়েশিয়া ফেরত জরেজের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শামীমার সম্পর্ক তৈরি হয়। দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে জরেজ ও তাঁর স্ত্রীের মধ্যে বিরোধ বাধে। পরে জরেজের বন্ধু আশরাফুলও শামীমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনজনই রংপুর থেকে ঢাকায় এসে ডেমরার দক্ষিণ ধনিয়াতে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে সম্পর্কগত বিরোধ ও উত্তেজনার এক পর্যায়ে হাতুড়ির আঘাতে আশরাফুল নিহত হন বলে ডিবির ব্যাখ্যা।
র্যাবের দেয়া তথ্য ভিন্ন। র্যাব জানায়, আশরাফুলকে ‘ফাঁদে ফেলে’ ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করেছিলেন জরেজ ও শামীমা। এক মাস ধরে শামীমা ফোন ও ভিডিওকলে আশরাফুলকে আকৃষ্ট করেন। ঢাকায় আনার পর মালটার শরবতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচেতন করা হয়। এরপর জরেজ ঘনিষ্ঠ ভিডিও ধারণ করেন। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবার প্রভাবে উত্তেজিত জরেজ হাতুড়ি দিয়ে আশরাফুলকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ পাশের ঘরে রেখে দুজন রাত কাটান। পরদিন চাপোটি ও দুটি ড্রাম এনে লাশ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে ফেলে আসেন।
দুটি সংস্থার বর্ণনায় হত্যার মোটিভ, ঘটনার সূচনা, এমনকি হত্যার সময় আশরাফুলের অবস্থাও ভিন্ন। ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে বিবাদের পর ক্ষিপ্ত হয়ে জরেজ বন্ধুকে হত্যা করেন। র্যাব বলছে, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পরিকল্পনাই ছিল মূল চালিকাশক্তি, যা শেষে হত্যায় গড়ায়।
দুটি ড্রামে ভরা মরদেহ ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টসংলগ্ন ফুটপাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে শনাক্ত হয় তা রংপুরের নিখোঁজ ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের। পরে জরেজ এবং শামীমা ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, দুই আসামিকে পৃথকভাবে গ্রেপ্তার করায় তাদের স্বীকারোক্তিমূলক বয়ানে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী কোন বয়ানটি ঘটনাকে প্রতিফলিত করে, তা নিশ্চিত হতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণ বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
হত্যার নির্মমতা, লাশ টুকরো করার পদ্ধতি এবং দুই সংস্থার পরস্পরবিরোধী তথ্য মিলিয়ে ঘটনাটি এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত অপরাধ তদন্তে পরিণত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au