রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২১ নভেম্বর- নতুন কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন দিল্লির সুরক্ষায় থাকলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠেছে। ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যর্পণ চাইছে, কিন্তু ভারত সে বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ফলে রায় কার্যকরের সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত।
ভারত বলছে, মানবিক কারণে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লিকে এখন হিসাব করতে হচ্ছে কত দূর পর্যন্ত তাকে রক্ষা করা যায় এবং এর কূটনৈতিক মূল্য কতটা চুকাতে হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, ভারতের সামনে চারটি সম্ভাব্য পথ খোলা আছে।
প্রথম বিকল্প হলো শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করা। কুগেলম্যান মনে করেন, এটি রাজনৈতিকভাবে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে ভারত এই পথে হাঁটতে রাজি হবে না। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো বর্তমান অবস্থান বজায় রাখা। কিন্তু আগামী বছর বাংলাদেশে নির্বাচন হলে দিল্লির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
তৃতীয় বিকল্প হিসেবে বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে নীরব থাকতে চাপ দেওয়া। কোনো বিবৃতি বা সাক্ষাৎকার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হতে পারে। তবে তিনি এখনও আওয়ামী লীগের প্রধান হওয়ায় এই প্রস্তাবে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। একইভাবে দিল্লিও এমন চাপ প্রয়োগ করতে চাইবে না।
সবশেষ পথ হলো তাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো। কিন্তু কুগেলম্যান মনে করেন, আইনি জটিলতা এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে এমন একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্রকে গ্রহণ করতে আগ্রহী দেশ খুঁজে পাওয়া কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলছে তারা বন্ধুদের বিরুদ্ধে যায় না। শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ের কাছেও প্রভাবশালী ছিলেন। সে কারণে তাকে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা এখনই আলোচনার বাইরে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্যগত লেনদেন ১৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ভারতীয় জ্বালানি, কাঁচামাল, ট্রানজিট সুবিধা এবং বৈদেশিক ঋণ বাংলাদেশে অর্থনীতিকে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কোনো পক্ষই হঠাৎ ভেঙে ফেলতে চাইবে না।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরতদ্বাজ উল্লেখ করেন, পানি বণ্টন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ সবক্ষেত্রেই দুই দেশ জটিল পারস্পরিক নির্ভরশীলতায় আবদ্ধ।
বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপে ভারতকেন্দ্রিক নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানী বিয়ান সাইয়ের মতে, নতুন কূটনৈতিক তৎপরতায় সেই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার বিষয়টি ছাড়াও ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। এ দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সহযোগিতা ভারতের জন্য অপরিহার্য।
এসওএএস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অবিনাশ পলিওয়াল বলেন, দিল্লির এখন ধৈর্য ধরে ঢাকার রাজনৈতিক দল ও শক্তি কাঠামোর সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত। তার মতে, আগামী এক বছরের বেশি সময় দুদেশের সম্পর্কে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নিলে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে।
কুগেলম্যান মনে করেন, সংকট আরও তীব্র হতে পারে, তবে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া বা চূড়ান্ত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমই। সর্বোচ্চ পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক টিকে থাকবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au