রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ১৪ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে ভয়াবহ বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন দুই বন্দুকধারীর একজনও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৯ জন। তাদের সিডনির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে ক্যাম্পবেল পারেড এলাকার একটি সেতু থেকে দুই বন্দুকধারী জনসমাগমপূর্ণ সৈকতের দিকে গুলি চালায়। পরে পুলিশের অভিযানে সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গাড়ি থেকে ঘরে তৈরি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এই হামলাটি ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইওর মহাপরিচালক মাইক বার্জেস জানিয়েছেন, দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা এখনো “সম্ভাব্য” পর্যায়েই রয়েছে। ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সম্ভাব্য মানে সন্ত্রাসী হামলার ৫০ শতাংশ আশঙ্কা। আপাতত এই মাত্রা পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে না।
হামলার পর বন্ডাই সৈকতের পাশ দিয়ে যাওয়া ব্যস্ত সড়ক ক্যাম্পবেল পারেড দুই দিক থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে। চালকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। জরুরি সেবা সংস্থা ও ট্রাফিক বিভাগ ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের বনি্রিগ এলাকায় সন্দেহভাজন এক বন্দুকধারীর বাড়িতে ব্যাপক পুলিশ অভিযান চালানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট ও গোয়েন্দারা উপস্থিত রয়েছেন। আশপাশের একটি বড় এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।
এএসআইও প্রধান মাইক বার্জেস আরও জানান, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজন আগে থেকেই সংস্থাটির নজরে ছিলেন। তবে তাকে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামলায় আহত দুই পুলিশ সদস্যের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং সংকটাপন্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। দুজনই অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
এই ঘটনার পর জাতির উদ্দেশে বক্তব্যে প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল দেশকে বিভক্ত করা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াকে বিভক্ত হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বন্ডাইসহ পুরো নিউ সাউথ ওয়েলসজুড়ে এখনো অসংখ্য ভালো মানুষ আছেন, যারা ঘৃণা ও সহিংসতার বিপরীতে ঐক্যের বার্তা বহন করেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ইহুদি অস্ট্রেলীয়দের কখনোই এমন ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা নয়। হানুক্কার প্রথম দিনে, যা আনন্দ ও ধর্মীয় উদযাপনের দিন, সেখানে এমন হামলা জাতির হৃদয়ে আঘাত করেছে। তিনি একে ঘৃণা, ইহুদিবিদ্বেষ ও সন্ত্রাসবাদের জঘন্য প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ভীতু সন্ত্রাসীদের চেয়ে শক্তিশালী এবং সাহসী। দেশ কখনো বিভাজন, সহিংসতা বা ঘৃণার কাছে নতি স্বীকার করবে না। দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে এবং জাতি হিসেবে সবাই একসঙ্গে এই সংকট কাটিয়ে উঠবে।
সূত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au