গাজীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অসুস্থ দুই শতাধিক শ্রমিক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অবস্থিত কনসেপ্ট পোশাক কারখানায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই শতাধিক শ্রমিক। আকস্মিক এই ঘটনায় কারখানাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে অনেককে টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর সকালে অন্যান্য দিনের মতোই কারখানায় কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ একের পর এক শ্রমিক অসুস্থ হতে শুরু করেন। প্রথমে কয়েকজনের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। অনেক শ্রমিক কাজের ফ্লোরেই লুটিয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে শ্রমিকদের মধ্যে ছুটাছুটি শুরু হয়। কারখানা থেকে বের হয়ে আসার সময় দৌড়াদৌড়ির মধ্যে কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহত হন। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কারখানার আশপাশে ভিড় জমতে থাকে।
অসুস্থ ও আহত শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে টঙ্গীর ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শ্রমিক মাথা ঘোরা, বমি, শারীরিক দুর্বলতা ও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইকবাল চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার ভেতরে কোনো স্থানে গ্যাস লিকেজ অথবা তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত বমি, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে প্রকৃত কারণ জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন খান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কী কারণে এত সংখ্যক শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে ঘটনাটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তারা ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কনসেপ্ট পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকর্মীদের কারখানার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।