রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২৭ ডিসেম্বর- ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর ইউক্রেন সীমান্তে যুদ্ধবিমান প্রস্তুত অবস্থায় রেখেছে পোল্যান্ড। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ঠিক আগমুহূর্তে চালানো এই হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইউরোপীয় অঞ্চলে।
পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে তারা ‘প্রতিরোধমূলক’ ব্যবস্থা হিসেবে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থার তথ্যমতে, রাতভর রুশ হামলায় কিয়েভে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন।
হামলার পরও শান্তি উদ্যোগের তৎপরতা থেমে নেই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। তবে সর্বশেষ হামলার পর জেলেনস্কি আবারও অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করতে চায় না এবং ইউক্রেনকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করার সুযোগ খুঁজছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া প্রায় ৫০০টি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কিয়েভ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে নিশানা করা হয়েছে। হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বহু আবাসিক ভবনে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও ঘরবাড়িতে আগুন জ্বলছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার কারণে হাজার হাজার ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তীব্র শীতের মধ্যে অনেক এলাকাই এখন গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্ব কিয়েভের দারনিতস্কি জেলায় একটি বৃদ্ধাশ্রম থেকে ৬৮ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, “রুশ প্রতিনিধিরা দীর্ঘ আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে ড্যাগার ক্ষেপণাস্ত্র ও শাহেদ ড্রোনই তাদের ভাষা।” তিনি দাবি করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং অন্যান্য মিত্রদের রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ড তার যুদ্ধবিমান, ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার নজরদারি সক্রিয় করে। ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তে পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের পাশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে শনিবার সকালে তারা জানায়, পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর সাতটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
শনিবার জেলেনস্কি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের মধ্যে ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে জেলেনস্কির প্রস্তাবিত নতুন ২০ দফা শান্তি খসড়া নিয়েও আলোচনা চলছে। এটি আগের ২৮ দফা পরিকল্পনার সংশোধিত সংস্করণ, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ প্রণয়ন করেছিলেন। আগের খসড়াটি রাশিয়ার পক্ষে বেশি সহায়ক বলে সমালোচিত হয়েছিল। নতুন খসড়াকে জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষের একটি ভিত্তিমূলক নথি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া এই পরিকল্পনার কোনো কার্যকারিতা নেই। পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জেলেনস্কির প্রস্তাব তাঁর সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও ইউরোপীয় মিত্রদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে রাশিয়া আবার আক্রমণ করলে সমন্বিত সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়েছে। তবে জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেখানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব আলোচনায় আসতে পারে।
ট্রাম্প জানান, রোববার তিনি নতুন খসড়াটি দেখার আশা করছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জেলেনস্কি ও পুতিন উভয়ের সঙ্গেই আলোচনা ভালো পথে এগোবে বলে তিনি আশাবাদী এবং শিগগিরই রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও কথা বলবেন।
সূত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au