ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি- নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে বাংলাদেশের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
নির্বাচনের আগে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা স্থগিত করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সামগ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, যেসব মিশনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, কেবল সেসব জায়গায় আপাতত ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এটি কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং পুরোপুরি নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া একটি সাময়িক ব্যবস্থা।
এ সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, বর্তমানে কি তিনটি জায়গা থেকে ভিসা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, হ্যাঁ, তিনটি জায়গায় ভিসা কার্যক্রম বন্ধ আছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন থেকে বর্তমানে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। তবে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, মুম্বাইয়ের উপ-হাইকমিশন, চেন্নাই ও গুয়াহাটির সহকারী হাইকমিশন থেকে ভিসা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর অনিবার্য কারণ দেখিয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভিসা ও সব ধরনের কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। একই দিনে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন থেকেও ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি তার সঙ্গে একমত। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, একজন ক্রিকেটার সীমিত সময়ের জন্য মাঠে খেলে হোটেলে ফিরে এলেও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়, তাহলে পুরো দল এবং ম্যাচ দেখতে যাওয়া সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্য ও কার্যকলাপে যুক্ত কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সংস্থাগুলোর পক্ষে সবাইকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া বাস্তবিক অর্থেই কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সে কারণেই বাংলাদেশ ভারতের বাইরে, তুলনামূলক নিরাপদ কোনো দেশে ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এই পরিস্থিতি ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যু আসে এবং প্রতিটিরই কিছু না কিছু নেতিবাচক প্রভাব থাকে। তবে যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ জড়িত, সেখানে অযথা ক্ষতি করার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি বলেন, যদি চাল আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ থাকে এবং কম দামে পাওয়া যায়, তাহলে ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত রাখতে কোনো আপত্তি দেখেন না তিনি। তার মতে, একদিকে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্বার্থ, এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় সরকার।
সূত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au