সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি- জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা এক মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্তে অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল না পাওয়াসহ একাধিক তথ্যগত অসংগতি উঠে আসায় এই সুপারিশ করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. শাহজাহান ভূঁইয়া গত বছরের ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এতে শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৫ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। পরে ২২ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য বাদীকে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে।
মামলাটি করেন শরিফ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে আহত সাহেদ আলীর ভাই দাবি করে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট ধানমন্ডির জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার থেকে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের মীনা বাজারের সামনে বিবাদীদের ইন্ধনে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে সাহেদ আলীসহ ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের ৯ শিক্ষার্থী আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহাবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, শেখ ফজলে নূর তাপস, তৎকালীন সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্তকালে এজাহারভুক্তদের পাশাপাশি আরও দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১১৫ জনের বিরুদ্ধেই অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার মূল ভুক্তভোগী হিসেবে উল্লেখ করা সাহেদ আলীসহ আহতদের কাউকেই ঘটনাস্থল, আশপাশের হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ার, ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালান। সীমান্ত স্কয়ার দোকান মালিক সমিতির কাছে পাঠানো চিঠির জবাবে জানানো হয়, সেখানে সাহেদ আলী নামে কোনো দোকান মালিক বা কর্মচারীর অস্তিত্ব নেই এবং আন্দোলনে আহত হওয়ার কোনো তথ্যও তাদের জানা নেই।
এজাহারে আহত হিসেবে উল্লেখ করা ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর অধ্যক্ষ বরাবর চিঠি পাঠানো হলেও পূর্ণাঙ্গ নাম, রোল, বিভাগ বা অভিভাবকের তথ্য না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষও কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘটনার সময় বা পরে আশপাশের কোনো হাসপাতালে ওই নামের আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
বাদী শরিফকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে ভুক্তভোগীকে হাজির করতে এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দিতে বলা হলেও তিনি তা করতে ব্যর্থ হন। তাঁর দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা দেখেন, সেখানে শরিফ নামে কেউ বসবাস করেন না। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, তাঁর নাম শরিফুল ইসলাম এবং তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী এলাকার বাসিন্দা। তবে সেখানেও স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁর সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাদীর মোবাইল ফোন অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকত। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের একপর্যায়ে তিনি ধানমন্ডি লেক এলাকায় তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সে সময় তাঁকে ভুক্তভোগী হাজির করা ও চিকিৎসার কাগজপত্র দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও তিনি তা সরবরাহ করেননি। এজাহারেও কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত ছিল না।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, মামলাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং তদন্তে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা-ই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। অন্য এক মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে। তবে এই মামলায় অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া জুনাইদ আহমেদ পলক বর্তমানে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au