সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন ২৪ জানুয়ারি- মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ সরানো শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, অঞ্চলটির ভেতরে থাকা কিছু সেনা ও সামরিক সরঞ্জামের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের আওতায় ইরাককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কোন সম্পদ ঠিক কোথায় মোতায়েন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুনর্বিন্যাসের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ‘বিকল্প অপশন’ রাখা।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে আটটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে ইরাক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান ও মিসরে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন ছিল।
সাম্প্রতিক এই সামরিক পুনর্বিন্যাসের পেছনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। দেশটির মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের ফলে অর্থনৈতিক চাপ চরমে পৌঁছালে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির দাবি, এসব বিক্ষোভ ও দমন অভিযানে প্রায় চার হাজার মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে প্রকাশ্য আন্দোলন অনেকটাই কমে এসেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সুরও তুলনামূলকভাবে কিছুটা নরম হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, এসব ঘটনার পেছনে বিদেশি শক্তির উসকানি রয়েছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতেই এমন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ পুনর্বিন্যাস মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
সুত্রঃ শাফাক নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au