নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ৩ ফেব্রুয়ারি- চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজনের আনন্দঘন আয়োজন শেষ হলেও সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে গভীর উৎকণ্ঠায়। কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এই বনভোজন শেষে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বাড়ি ফিরলেও শিক্ষার্থী পূজা রানী দাস আর ফেরেননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে তার পরিবার, বিদ্যালয় ও পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দিনভর ভ্রমণ ও বিনোদনের পর সন্ধ্যার দিকে সবাই নিজ নিজ বাড়ির পথে ফেরেন। তবে বাড়ি ফিরে উপস্থিতি যাচাইয়ের সময় দেখা যায়, পূজা রানী দাসের কোনো খোঁজ নেই। তখনই বিষয়টি দ্রুত তার পরিবারকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে পূজার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তার বাবা অপু দাস জানান, মেয়ের নিখোঁজের খবরে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, তার মেয়ে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, কিছুই জানা যাচ্ছে না। প্রতিটি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় কাটছে। তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত তার মেয়েকে খুঁজে বের করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বনভোজনের সময় শিক্ষার্থীদের দেখভাল করা স্কুলের দায়িত্ব ছিল। কীভাবে সফর শেষে একজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান, যাতায়াতের পথ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনাও করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এত দূরের সফরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও তদারকি নিশ্চিত করা হয়নি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কেন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও যাতায়াত আরও কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা হয়নি। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষা সফরে আরও দায়িত্বশীল ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একজন অভিভাবক বলেন, শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল। একজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়া শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই কষ্টের বিষয়। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত পূজা রানী দাসের কোনো সন্ধান মেলেনি। পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী সবাই মিলেই তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সহপাঠীরা তার নিরাপদ ফিরে আসার আশায় প্রহর গুনছেন।
এই ঘটনায় শিক্ষাসফর ও বনভোজনের মতো আয়োজনগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, তদারকি এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সবাই আশা করছেন, দ্রুত পূজা রানী দাসকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং তার পরিবার আবার স্বস্তি ফিরে পাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au