ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারি- দেড় বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন, তাহলে তার সঙ্গে আলোচনা করার কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, “আমি সবসময়ই উন্মুক্ত। আমি এমন একজন মানুষ, যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করে—তা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক। এটাই আমার কৌশল; জীবনে সবসময়ই এভাবেই চলেছি।”
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জয় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভির সাংবাদিক মাহাথির পাশার সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারটি শনিবার ভোরে সম্প্রচার করা হয়। সাক্ষাৎকারে জয় চব্বিশের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ, আওয়ামী লীগের শাসনকাল, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়, বিএনপির ভবিষ্যত, জামায়াতের পুনরুত্থান, এবং দেশের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন।
জয় এবারের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় দল এবং সব প্রগতিশীল দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। মূলত এমনভাবে সাজানো নির্বাচন হয়েছে, যাতে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় বেশি প্রভাব সংসদে পায়। এটি টেকসই হবে না এবং ভবিষ্যতে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে।”
তিনি আরও বলেছেন, “দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে যদি টোরি বা লিবারেলদের একটি দল নিষিদ্ধ করা হতো, তাহলে কি সেটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যেত? একে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলা যাবে না।” জয় উল্লেখ করেন, জামায়াত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আদালতের রায় অনুযায়ী, আর তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করলে তারা পুনরায় অংশ নিতে পারত।
সাক্ষাৎকারে জয় বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনের কারচুপির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “গত তিনবারের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়বার বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে দেখা গিয়েছিল আমাদের দল বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে। প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে অনিয়ম করেছেন, তবে সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়ত না।”
জয় বলেছেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী মত দমন, নৌকায় সিল মের ব্যালট বাক্স ভরার অভিযোগ ছিল, যা এই নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তিনি বলেন, “আমরা দাবি করি, আওয়ামী লীগ কাউকে নিষিদ্ধ করেনি। এবারের ভোটের মৌলিক পার্থক্য এটিই।”
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা যদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে ঘোষণা করেন, জয় তা মেনে নেবেন কি, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “না, মেনে নেওয়া যায় না। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সরকারের তত্ত্বাবধানে চলেছেন। তারা স্বাধীনভাবে দেশ ঘুরে দেখতে পারেনি এবং আইনশৃঙ্খলার কারণে নিরাপদও হয়নি।”
জয় বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলন ও তার সময়ের নিহতদের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু কোটা বাতিলের রায় ও সরকারের ব্যর্থতার কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় কয়েকশ মানুষ মারা গিয়েছে, তবে মোট ১৪০০ নয়, কারণ তাদের অর্ধেক ছিলেন পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মী। তিনি যুক্তি দেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল জীবন রক্ষা করা এবং সহিংসতার ক্ষেত্রে সীমিত প্রতিরোধ করা।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন। জয় বলেন, “আমি উদ্বিগ্ন নই। দেশের অন্তত অর্ধেক জনগণ এই নির্বাচনের ফল মেনে নেবে না। আমার মা ভারতে থাকায় নিরাপদ, সেখানে আইনি প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছে।”
জয় জামায়াতের পুনরুত্থান প্রসঙ্গেও বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীহীন মাঠে খেললে পুনরুত্থান সহজ। জামায়াত এককভাবে জনপ্রিয় নয়, তবে পরিস্থিতি এমন হয়েছে।”
নিজের রাজনৈতিক আগ্রহ নিয়ে জয় বলেন, “আমি কখনও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনুভব করি নি। আমার কখনোই ক্ষমতা বা অর্থের প্রতি লোভ ছিল না। আমি স্বাচ্ছন্দ্যেই থাকতে পারলেই খুশি।”
সাক্ষাৎকারে জয় বলেছেন, তারেক রহমানকে ‘প্রতিশোধের রাজনীতির’ পথে যেতে দেওয়ার জন্য তিনি কোনো উদ্যোগ নেবেন না, তবে যদি তারেক প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে অবশ্যই তাঁর সঙ্গে আলোচনা এবং কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বংশানুক্রমিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করা অর্থহীন, কারণ দলীয় কাউন্সিলে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচিত হয়।
এই সাক্ষাৎকারে জয় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভূমিকাসহ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে সরাসরি এবং বিস্তারিতভাবে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au