গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় দুই আসামির ডিএনএ মিলল
রংপুর মহানগরীর মাছুয়া পাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা কামড় দেওয়া খেজুর,…
মেলবোর্ন, ২৮ ফেব্রুয়ারি- একসময় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী করপোরেট শক্তি ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। উপনিবেশ বিস্তার, বাণিজ্য ও শাসনের মাধ্যমে যে কোম্পানি একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ ফেলেছিল, সেই নামেই গড়ে ওঠা আধুনিক বিলাসপণ্যের ব্র্যান্ডটিও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারল না। দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
ঐতিহাসিক ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে উনিশ শতকের মাঝামাঝি। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৮৫৮ সালে শুরু হয় সরাসরি ব্রিটিশ রাজ। দীর্ঘ শোষণ, অর্থনৈতিক লুটপাট ও দুর্ভিক্ষের কারণে কোম্পানিটির নাম উপমহাদেশের ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছে। বাংলার দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন মানবিক বিপর্যয়ে লাখো মানুষের প্রাণহানির সঙ্গে কোম্পানির শাসন জড়িত ছিল।
এর বহু বছর পর, ২০১০ সালে ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব কিনে নেন এবং লন্ডনে এটিকে বিলাসপণ্যের খুচরা ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করেন। লন্ডনের মেফেয়ারে ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালু করা হয়। সেখানে উচ্চমানের চা, চকলেট, মিষ্টান্ন, মসলা ও অন্যান্য প্রিমিয়াম পণ্য বিক্রি হতো।
কিন্তু নতুন রূপে শুরু হওয়া কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত আর্থিক সংকট সামাল দিতে পারেনি। ভারত টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেশনে যায়। প্রতিষ্ঠানটির মোট দেনা দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার ইউরোর বেশি। এর মধ্যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত মূল কোম্পানির কাছে ৬ লাখ ইউরোর বেশি বকেয়া, কর বাবদ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ইউরো এবং কর্মীদের পাওনা প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার ইউরো।
মেফেয়ারের ফ্ল্যাগশিপ স্টোরটি বর্তমানে বন্ধ এবং ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত। কোম্পানির ওয়েবসাইটও অচল হয়ে গেছে।
১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ–এর জারি করা ফরমানের মাধ্যমে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তখন ইস্ট ইন্ডিজ বলা হতো। এই অঞ্চল থেকে মসলা ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ মূলধনী বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোম্পানিটির যাত্রা শুরু হয়। এটি ছিল বিশ্বের প্রথমদিককার যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলোর একটি, যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে লাভ-ক্ষতিতে অংশ নিতে পারতেন।
একসময় যে কোম্পানি সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রতীক ছিল, তার নামেই পুনর্জন্ম নেওয়া আধুনিক ব্র্যান্ডটির পরিণতিও শেষ পর্যন্ত দেউলিয়াতেই গিয়ে ঠেকল। ইতিহাসের ভার বহন করা একটি নাম আবারও ব্যবসায়িক মঞ্চ থেকে সরে গেল।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au