ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…
মেলবোর্ন, ১১ এপ্রিল- যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আকবর হোসেন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তাঁর আকস্মিক পদত্যাগ কূটনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যম মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিজের দেওয়া বার্তায় আকবর হোসেন জানান, একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি এই দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারছেন না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত নয়। তিনি লেখেন, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং পারিবারিক পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পরে টেলিফোনে কথা বলার সময় তিনি আরও বিস্তারিতভাবে জানান, তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ এবং এই মুহূর্তে পরিবারের পাশে থাকা তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাঁর পদত্যাগপত্রেও এই কারণই উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর বাইরে অন্য কোনো কারণ নেই।
এদিকে, তাঁর এই পদত্যাগের বিষয়ে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। কবে থেকে তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হবে, দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে কিংবা তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আকবর হোসেনকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাঁকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি হাইকমিশনের গণমাধ্যম-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কাজে সক্রিয় ছিলেন।
এর আগে আকবর হোসেন মজুমদার দীর্ঘদিন গণমাধ্যমে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিবিসি বাংলার ঢাকা কার্যালয়ে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দেশ-বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সাংবাদিকতা থেকে কূটনৈতিক দায়িত্বে আসার পরও তিনি গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তার পদত্যাগের ফলে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গণমাধ্যম সংযোগ কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন নজর রয়েছে, দ্রুত নতুন করে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয় কি না এবং হাইকমিশন কীভাবে এই শূন্যতা পূরণ করে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au