অস্ট্রেলিয়া

সংবাদ ফিচার | ওটিএন বাংলা

“পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ নয়”- অ্যানজাক (ANZAC) ডেতে ভিয়েতনাম ভেটেরান গ্যারি

  • 4:01 pm - April 25, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২৯ বার
যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শান্তির ডাক—ওটিএন বাংলাকে গ্যারির সাক্ষাৎকার

মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল: আজ ২৫ এপ্রিল, অস্ট্রেলিয়া জুড়ে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে অ্যানজাক (ANZAC) ডে। প্রতি বছর এই দিনটি অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মানুষের কাছে  ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৫ সালের এই দিনে তুরস্কের গ্যালিপোলি উপদ্বীপে অবতরণ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের যৌথ বাহিনী—যা সংক্ষেপে অ্যানজাক নামে পরিচিত। তাদের লক্ষ্য ছিল কনস্টান্টিনোপল দখল করে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়া। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী তা সফল হয়নি। প্রবল প্রতিরোধ, কঠিন পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ আট মাসের অচলাবস্থার পর সেই অভিযান শেষ হয় বিপুল প্রাণহানির মধ্য দিয়ে। তবুও গ্যালিপোলির সেই লড়াই ইতিহাসে এক গভীর ছাপ রেখে যায়, যা পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে ওঠে।

এই দিনে শুধু গ্যালিপোলির সৈন্যদের নয়, বরং সব যুদ্ধ ও শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা হয়।

এমনই এক দিনে, ওটিএন বাংলার সঙ্গে কথা বলেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান ভেটেরান গ্যারি। তিনি একসময় বিমান বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থেকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের সেই অধ্যায় তাকে আজও গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাই তার কণ্ঠে শোনা যায় স্পষ্ট আহ্বান—“এই পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ নয়।”

“পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ নয়”—ভিয়েতনাম যুদ্ধের ভেটেরান গ্যারি

আজ তিনি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন স্মরণ অনুষ্ঠানে। মেলবোর্নের ফিলিন্ডার্স স্ট্রিট অ্যানজাক (ANZAC) ডে প্যারেডে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ের সব নিহত সেনাসদস্যদের। তার কাছে এই দিনটি কেবল অতীত স্মরণ নয়, বরং একটি নীরব প্রতিজ্ঞা—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলা।

গ্যারির পরিবার তিন প্রজন্মে বিস্তৃত, রয়েছে ১০ জন নাতি-নাতনি। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তার ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, “আমরা যা দেখেছি, তারা যেন তা না দেখে। তারা যেন এমন এক পৃথিবীতে বড় হয়, যেখানে যুদ্ধের ভয় নেই, আছে শুধু সহমর্মিতা ও শান্তি।”

তার কাছে অ্যানজাক ডে মানে গভীরভাবে ভাবার একটি দিন—যে দিনটি তাকে মনে করিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ার লাখো মানুষের আত্মত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাস শুধু যুদ্ধের নয়, বরং মানবতারও।

গ্যারির কণ্ঠে উচ্চারিত বার্তাটি আজকের পৃথিবীর জন্য এক শক্তিশালী বার্তা—যুদ্ধ কখনো সমাধান নয়, শান্তিই একমাত্র পথ।

এই শাখার আরও খবর

পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

ধামরাইয়ের ৫২০ কেজির অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমা, হবে না বিসর্জন

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: ঢাকার ধামরাইয়ের বণিকবাড়িতে ৫২০ কেজি ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমার পূজা চলছে। আগামীকাল বুধবার পূজা শেষে এটি দেওয়া হবে না বিসর্জন। এটিই এখানকার রীতি।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au