বাংলাদেশ

ইরাকের সড়কে ঝড়ল দুই বাংলাদেশির প্রাণ

  • 2:05 pm - May 26, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২০৬ বার
ইরাকের সড়কে ঝড়ল দুই বাংলাদেশির প্রাণ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৬ মে- ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগামী একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তারা। নিহত দুজনই জামালপুর জেলার বাসিন্দা এবং জীবিকার তাগিদে ইরাকে গিয়ে একটি কনফেকশনারি কারখানায় কাজ করতেন।

সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় সময় ভোররাতে কুর্দিস্তানের হাওলিয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাতভর কাজ শেষে তারা বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় রাস্তা পার হওয়ার মুহূর্তে দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দেয়।

নিহতরা হলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে মনোহর আলী (৩৫) এবং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে বজলুর রহমান (৪০)।

দুজনের মৃত্যুর খবরে তাদের গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

স্বজনরা জানান, মনোহর আলী প্রায় চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে যান। আর বজলুর রহমান যান প্রায় দেড় বছর আগে। তারা একই কনফেকশনারি কারখানায় কাজ করতেন এবং একসঙ্গেই থাকতেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার রাতভর কারখানায় কাজ শেষে সোমবার ভোরে বাসায় ফিরছিলেন তারা। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী বাস তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

সোমবার দুপুরে মনোহর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন, রোববার বিকেলেই স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “ও পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছিল। কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি এটাই শেষ কথা হবে। ভোরে খবর পাই, সড়ক দুর্ঘটনায় ও মারা গেছে।”

সোমা আক্তার আরও জানান, স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার দিনই কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের একমাত্র বসতঘরটিও বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার স্বামীই সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। যেদিন ওর মৃত্যুর খবর পেলাম, সেদিনই ঘরটাও ঝড়ে ভেঙে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব, ব্যাংকের ঋণের কিস্তি দেব, দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব কিছুই বুঝতে পারছি না।”

অন্যদিকে নিহত বজলুর রহমানের স্ত্রী আঁখি আক্তার জানান, রোববার দুপুরে স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “ও বলেছিল বাচ্চাদের খেয়াল রাখতে। ঈদের পর দেশে আসবে বলেছিল। কিন্তু সেই মানুষটাই আর ফিরল না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই পরিবারই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বিদেশে গিয়েছিলেন মনোহর ও বজলুর। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

এই শাখার আরও খবর

সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…

ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে…

মসজিদে বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য খতিবের, নিরব প্রশাসন

ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকার টানপাড়ার জামতলা জামে মসজিদে জুমার বয়ানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রসাদ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে মসজিদটির অস্থায়ী খতিব…

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au