মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই: ভারতের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা সংস্কারবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সে আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটিকে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে লোকসভায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াংকা গান্ধী কমিটির সদস্য নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভি কামাকোটিকে কটাক্ষ করে বলেন, পরীক্ষা সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে এমন একজনকে কেন রাখা হয়েছে, যিনি অতীতে গোমূত্রের গুণাগুণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) লোকসভায় প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ আইন সংশোধনী বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রিয়াংকা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের গঠিত নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কমিটিতে সাবেক গোয়েন্দা প্রধান তপন ডেকা, সাবেক ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, সাবেক শিক্ষা সচিব অনিতা কারওয়াল এবং সাবেক বিহারের মুখ্যসচিব অমৃত লাল মীনার মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পাশাপাশি ভি কামাকোটিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে গোমূত্রের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণাগুণ নিয়ে তাঁর মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে প্রিয়াংকা এ নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ সময় তিনি সদ্য দায়িত্ব পাওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীরও সমালোচনা করেন। প্রিয়াংকা দাবি করেন, বিলকিস বানো মামলার দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়া একজনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া দেশের নারীদের জন্য সঠিক বার্তা বহন করে না।
প্রিয়াংকা গান্ধীর বক্তব্যের পর লোকসভায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, এ ধরনের মন্তব্য একজন ব্যক্তির চরিত্রহননের শামিল এবং তিনি বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও প্রিয়াংকার বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিগত মন্তব্য না করার নির্দেশ দেন। জবাবে প্রিয়াংকা গান্ধী বলেন, তাঁর বক্তব্যের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং তিনি তা উপস্থাপন করবেন। তবে পরে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়।
বিতর্কের একপর্যায়ে প্রিয়াংকা গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ আইন কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির নজির দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, গত এক দশকে ভারতে অন্তত ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: দ্যা প্রিন্ট