বাংলাদেশ

বেশি হাত বদলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত: সিপিডি

  • 2:13 pm - July 31, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫২ বার
বেশি হাত বদলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ে ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত: সিপিডি।ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: উৎপাদক থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর পথে দীর্ঘ ও অদক্ষ সরবরাহ শৃঙ্খলের কারণে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম সর্বোচ্চ ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হচ্ছে এবং সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে পড়ছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। এমন তথ্য উঠে এসেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর এক গবেষণায়। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘খাদ্যের মূল্যশৃঙ্খল: বাংলাদেশের বাজারব্যবস্থা, মুনাফা ও মধ্যস্বত্বভোগী’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ফকরুদ্দিন আল কবির।

গবেষণায় দেখা গেছে, উৎপাদক ও খুচরা বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্য ব্যবধান রয়েছে কাঁচা মরিচে, যেখানে দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ। এছাড়া মাঝারি মানের চালে প্রায় ১০০ শতাংশ, পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, মসুর ডালে ৭৮ শতাংশ, বেগুনে ৭২ শতাংশ এবং আলুতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে ছোট সরবরাহ শৃঙ্খলের পণ্যে মূল্য ব্যবধান অনেক কম। ডিমে ২৫ শতাংশ, মুরগির মাংসে ২২ শতাংশ, গরুর মাংসে ১৩ শতাংশ এবং রুই মাছে ১০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

ঢাকা বিভাগের ১০টি বাজারে ৮২০ জন ব্যবসায়ীর ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব পণ্য দীর্ঘ বিপণন শৃঙ্খলের মধ্য দিয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়, সেগুলোর মূল্য ব্যবধানও বেশি হয়। ফলে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করা জরুরি।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম ও রুই মাছের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে খুচরা বিক্রেতারা মূলত শহরাঞ্চলের আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল। এতে সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ীর প্রভাব বাড়ছে, বাজারে প্রতিযোগিতা কমছে এবং মূল্য অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।

মাঝারি মানের চালের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের মাত্র ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ পান কৃষক। বিপরীতে অটো রাইস মিল মালিকরা সবচেয়ে বেশি মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি চালের মজুত, সরবরাহ এবং মূল্য নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেন।

গবেষণাপত্র উপস্থাপনকালে ফকরুদ্দিন আল কবির বলেন, দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির জন্য শুধু উৎপাদন ব্যয় দায়ী নয়। সরবরাহ ঘাটতি, বাজারে সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য, মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা, মজুতদারি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণও সমানভাবে দায়ী।

তিনি জানান, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এখনও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত মজুরি ও ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অনেক পরিবার খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙছে কিংবা ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভোক্তা মূল্যসূচকের ঝুড়িতে খাদ্যের অংশ ৫৯ শতাংশ। দেশের ৬০ শতাংশের বেশি পরিবার তাদের মোট আয়ের অন্তত অর্ধেক খাদ্য কেনার পেছনে ব্যয় করে। সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবার তাদের মোট ভোগ ব্যয়ের প্রায় ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ খাদ্যের জন্য ব্যয় করলেও সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এ হার ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে খাদ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কয়েক বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, যা অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য ব্যয়ে চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যপণ্যের মূল্য নির্ধারণে উৎপাদন ব্যয়, বিপণন ব্যবস্থার অদক্ষতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিবন্ধকতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সরবরাহ ঘাটতি, মজুতদারি এবং দুর্বল বাজার প্রতিযোগিতাসহ নানা বিষয় ভূমিকা রাখে। তাই মূল্যবৃদ্ধির জন্য একক কোনো কারণকে দায়ী করা উচিত নয়।

প্রতিবেদনে সরবরাহ ঘাটতি, অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ, অন্যায্য মজুতদারি, পর্যাপ্ত হিমাগার ও কোল্ড-চেইন সুবিধার অভাব, ফসল-পরবর্তী সংরক্ষণে দুর্বলতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয়কে খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়ী করা কিংবা বাজারে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিকেই সিন্ডিকেটের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিপিডি খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, হিমাগার ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামো সম্প্রসারণ, কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে সরাসরি বাজার সংযোগ গড়ে তোলা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং প্রমাণিত মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এই শাখার আরও খবর

মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা

লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমার জুনিয়রের সম্পর্কটা শুধু মাঠের সতীর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বন্ধুত্বও ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচিত। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় গড়ে উঠেছিল তাদের দারুণ…

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল দেশ, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষক, অভিভাবক ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের…

আর্জেন্টিনার জয়, গোল-অ্যাসিস্টে বিদায় রাঙালেন মেসি

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটাও স্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ করেছে…

অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনায় প্রবীণসেবা কর্মীরাও ঝুঁকিতে

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনায় দেশটির প্রবীণসেবা খাতে কর্মরত কিছু কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর। একই সঙ্গে…

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে তিন দলের তিন পরিকল্পনা

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি, বিরোধী লিবারেল-ন্যাশনাল জোট এবং ওয়ান নেশন পার্টির মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। তিন দলই বর্তমানের তুলনায় অভিবাসন…

ভেনিস বিয়েনালে মেন্টরশিপে বাংলাদেশি শিল্পী মিতা চৌধুরী

অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেনিস বিয়েনালে মেন্টরশিপ কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আন্তঃবিষয়ক শিল্পী মিতা চৌধুরী। ২০২৬ সালের এই বিশেষ মেন্টরশিপের জন্য তাকে নির্বাচিত করেছে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au