বাংলাদেশ

‘মবের’ আতঙ্কে এক বছর ধরে শ্রেণিকক্ষের বাইরে কক্সবাজার সরকারি কলেজের দুই শিক্ষক

  • 8:51 pm - July 31, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮৭ বার
কক্সবাজার সরকারি কলেজ।ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই: সরকারি চাকরিতে বদলি হয়ে কর্মস্থলে যোগ দিলেও এক বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিত ক্লাস নিতে পারছেন না কক্সবাজার সরকারি কলেজের দুই শিক্ষক। কলেজে প্রবেশের চেষ্টা করলেই একদল শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ, ঘেরাও, হেনস্তা এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন তারা। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তারা ওই দুই শিক্ষককে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভুক্তভোগী দুই শিক্ষক হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুল আলম এবং ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক চক্রবর্তী।

যোগদান করেও নিতে পারেননি ক্লাস

সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুল আলম জানান, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই কক্সবাজার সরকারি কলেজে যোগদানের আদেশ পান তিনি। তবে প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন।

তার ভাষ্য, অন্তত ১০ বারের বেশি কলেজে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন না, তখন রামু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপরও তাকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করে কলেজে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

গত ১৬ জুন কলেজে গেলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেন তিনি। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

মুজিবুল আলম বলেন, “আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করতে চাই। সরকার যেখানে পোস্টিং দিয়েছে, সেখানে নিরাপদে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার অধিকার।”

অলক চক্রবর্তীর অবস্থাও একই

কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মফিদুল আলম জানান, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও প্রায় একই পরিস্থিতি চলছে। তিনিও দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিকভাবে বিভাগে পাঠদান করতে পারছেন না।

সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুল আলম এবং সহকারী অধ্যাপক অলক চক্রবর্তী।

তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি অলক চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলাই যথাযথ হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান দাবি করেন, মুজিবুল আলমের বিরুদ্ধে রামু সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এছাড়া কক্সবাজার সরকারি কলেজে যোগ দেওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।

একই ধরনের অভিযোগ তোলে ছাত্রশক্তিও। তাদের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে সুপারিশের চেষ্টা হয়েছিল।

অন্যদিকে অলক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, হিজাব নিয়ে মন্তব্য এবং বিভাগীয় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন ছাত্রনেতারা।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মফিজুল হক বলেন, কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো শিক্ষককে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, “সরকার যেহেতু নিয়োগ দিয়েছে, তাই তাদের কলেজে আসতে কোনো বাধা নেই।”

তবে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে পুলিশকে জানানো হয়। কিন্তু কলেজ প্রশাসনের পক্ষে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

‘আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হওয়া উচিত’

কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিদুয়ান উল হক বলেন, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বিচার আইনি ও বিভাগীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।তার ভাষায়, “একজন শিক্ষককে মব তৈরি করে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বিতর্কিত মন্তব্য

ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, তারা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।তিনি বলেন, “যারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে বা হামলা করেছে, তাদের আমরা যেখানে পাব, সেখানে মারব।”

তবে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, শিক্ষক নিয়োগ বা অপসারণের সিদ্ধান্ত ছাত্রসংগঠনের বিষয় নয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের ভূমিকা।

তদন্ত ছাড়াই অচলাবস্থা

শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মফিদুল আলম জানান, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মতামত লিখিতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কোনো শিক্ষককে কলেজে আসতে নিষেধ করার বা বদলির সুপারিশ করার এখতিয়ার শৃঙ্খলা কমিটির নেই।

এদিকে শিক্ষক পরিষদের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর কোনো বিভাগীয় বা বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে দীর্ঘ এক বছরেও তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়নি।

তার মতে, এতে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে, সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসন নেবে, নাকি সংগঠিত ছাত্রচাপ ও ‘মব’ সংস্কৃতি নির্ধারণ করবে।

এই শাখার আরও খবর

মেসির বিদায়ে নেইমারের আবেগঘন বার্তা

লিওনেল মেসির সঙ্গে নেইমার জুনিয়রের সম্পর্কটা শুধু মাঠের সতীর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের বন্ধুত্বও ফুটবলবিশ্বে বেশ আলোচিত। বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলার সময় গড়ে উঠেছিল তাদের দারুণ…

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল দেশ, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি

ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে শিক্ষক, অভিভাবক ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের…

আর্জেন্টিনার জয়, গোল-অ্যাসিস্টে বিদায় রাঙালেন মেসি

জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটাও স্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ করেছে…

অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনায় প্রবীণসেবা কর্মীরাও ঝুঁকিতে

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনায় দেশটির প্রবীণসেবা খাতে কর্মরত কিছু কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর। একই সঙ্গে…

অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমাতে তিন দলের তিন পরিকল্পনা

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি, বিরোধী লিবারেল-ন্যাশনাল জোট এবং ওয়ান নেশন পার্টির মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। তিন দলই বর্তমানের তুলনায় অভিবাসন…

ভেনিস বিয়েনালে মেন্টরশিপে বাংলাদেশি শিল্পী মিতা চৌধুরী

অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেনিস বিয়েনালে মেন্টরশিপ কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আন্তঃবিষয়ক শিল্পী মিতা চৌধুরী। ২০২৬ সালের এই বিশেষ মেন্টরশিপের জন্য তাকে নির্বাচিত করেছে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au