মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাইরের অংশ। ১১ জুলাই ২০২৫, ওয়াশিংটন ডিসি।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এ নীতির আওতায় নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের মার্কিন ভিসা পাওয়ার আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। শুক্রবার প্রকাশিত ট্রাম্প প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বিধান মূলত বি-১ (ব্যবসা) এবং বি-২ (পর্যটন) ক্যাটাগরির অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কোন আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে এবং বন্ডের পরিমাণ কত হবে, তা সংশ্লিষ্ট মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনে এই অঙ্ক সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচির ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই ব্যবস্থা ভিসাধারীদের ভিসার শর্ত মেনে চলতে উৎসাহিত করতে কার্যকর হয়েছে। এ কারণেই কর্মসূচিটিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়।
বেড়েছে বন্ডের সর্বোচ্চ অঙ্ক
পাইলট প্রকল্পের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের কাছ থেকে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নিতে পারতেন। তবে নতুন চূড়ান্ত নীতিতে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন নেওয়া হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত?
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অনেক বিদেশি নাগরিক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করেন। এ প্রবণতা কমাতে এবং ভিসার শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতেই ভিসা বন্ড নীতি চালু করা হচ্ছে।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে আগ্রহীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং অনেক আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ মুক্ত মতপ্রকাশ, ন্যায্য বিচার এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, পাশাপাশি বৈষম্যমূলক আচরণের আশঙ্কাও বাড়াবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বৈধ অভিবাসনেও কড়াকড়ি
সমালোচকদের মতে, অবৈধ অভিবাসন রোধের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাও আরও কঠোর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত ফি আরোপ এবং ভিসা আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করার মতো নতুন শর্ত।
সূত্র:রয়টার্স