ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আজ শনিবার অথবা আগামীকাল রোববারের মধ্যে হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এই পরিকল্পনা বাতিলও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মার্কিন দুই কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হলেও এর লক্ষ্যবস্তু, হামলার পরিধি কিংবা কোন ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, চলমান পরিস্থিতি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকবে এবং দেশটির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পরই সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে আলোচনা জোরালো হয়।
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ঘোষণা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ইরানে নতুন হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান-সমর্থিত বাহিনীর হামলার চেষ্টার জবাবে তারা এক দফা বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ওই অভিযানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হুমকির জবাব দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ওয়াশিংটন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। তবে এ হামলার জন্য এখনো কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে সামরিক সংঘাতে রূপ নিলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন (CNN)