অস্ট্রেলিয়া

পুলিশের গাড়ির সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্টবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ, নিহত চালক

  • 12:30 am - August 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৪৪ বার
"নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।"ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় তাঁর গাড়ির পেছনে জরুরি অভিযানে ছুটে চলা পুলিশের দুটি টহলগাড়ি ছিল। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত চালক কোনো তদন্তের আওতায় ছিলেন না।

বুধবার সকাল ১০টার কিছু পর সাইরেন ও ফ্ল্যাশিং লাইট চালু রেখে পারিবারিক সহিংসতার একটি জরুরি ঘটনার উদ্দেশে যাচ্ছিল পুলিশের দুটি গাড়ি। সে সময় অ্যাপিন রোডে একটি হ্যাচব্যাক গাড়ির প্রায় ৫০ মিটার পেছনে ছিল তারা।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সহকারী কমিশনার ব্রেট ম্যাকফ্যাডেন জানান, হঠাৎ করেই হ্যাচব্যাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীতমুখী লেনে চলে যায় এবং সামনে থেকে আসা একটি সিমেন্টবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই গাড়িটির চালকের মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৯ বছর।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত গাড়ি থামিয়ে ট্রাকচালককে সহায়তা করেন। ট্রাকচালক সামান্য আহত হন এবং মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে তাঁকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছুরিধারী এক ব্যক্তিকে ঘিরে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগের একটি জরুরি ঘটনায় সাড়া দিতে যাচ্ছিলেন। সে কারণে তাঁদের গাড়ির সাইরেন ও সতর্কতামূলক বাতি দীর্ঘ সময় ধরেই চালু ছিল।

তবে দুর্ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, পেছনে থাকা পুলিশের গাড়ি দেখে চালক আতঙ্কিত হয়ে এমনটি করেননি। সহকারী কমিশনার ম্যাকফ্যাডেন বলেন, কেন তিনি হঠাৎ বিপরীত লেনে চলে গেলেন, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

“ঘটনার পর দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের দ্রুত ও পেশাদার সাড়ার প্রশংসা করেছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার ব্রেট ম্যাকফ্যাডেন।” ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ আরও নিশ্চিত করেছে, নিহত চালকের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চলছিল না এবং তাঁকে থামানোরও চেষ্টা করা হচ্ছিল না। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাঁরা নিরাপদে ওই গাড়িটিকে অতিক্রম করে নিজেদের জরুরি অভিযানে এগিয়ে যেতেন।

ঘটনার পর এটিকে ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশের সম্পৃক্ততা থাকা এমন গুরুতর দুর্ঘটনার তদন্ত করা হবে।এদিকে, যে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা যাচ্ছিলেন, সেটিরও সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সহকারী কমিশনার ম্যাকফ্যাডেন দুর্ঘটনার পর পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও কর্মকর্তারা দ্রুত দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের সহায়তায় মনোযোগ দেন এবং অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্র: নাইন নিউজ

এই শাখার আরও খবর

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

ধামরাইয়ের ৫২০ কেজির অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমা, হবে না বিসর্জন

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: ঢাকার ধামরাইয়ের বণিকবাড়িতে ৫২০ কেজি ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমার পূজা চলছে। আগামীকাল বুধবার পূজা শেষে এটি দেওয়া হবে না বিসর্জন। এটিই এখানকার রীতি।…

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au