হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও পলিসিলিকন শিল্প–সম্পর্কিত নির্বাহী আদেশে সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬ আগস্ট ২০২৬।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট: রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া বিলটির ফলে ভারত ও চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর নতুন করে বাণিজ্যিক চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই মারা যাওয়া গ্রাহাম রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে জোরালো অবস্থান নিয়ে আসছিলেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও এরই মধ্যে পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।ছবি: রয়টার্স
সিনেটে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাঁর বোন ডার্লিন গ্রাহাম বলেন, এই বিল ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঠিক দুর্বল জায়গায় আঘাত করবে।’ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এক বছরের বেশি সময় ধরে গ্রাহামের সঙ্গে বিলটি পাসের জন্য কাজ করছিলেন। ভোটের পর তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ একা নয়।
ব্লুমেনথাল বলেন, “আজ আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলছি, আপনারা একা নন। আর ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি, আপনি ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।”
যেসব দেশের ওপর শুল্কের ঝুঁকি
রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনে, এমন বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বিলে। এই তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে।
ভারত ও চীনের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের জন্য বিলে ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা
বিলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়া যেসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজের পতাকা পরিবর্তন করে ব্যবহার করছে, সেগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব জাহাজের মাধ্যমে রাশিয়া তেল ও জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্স
জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। তবে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে যে তা জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয়।
ইরানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা বাড়ছে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে বিলে। এই আইনের আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এখন প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন
সিনেটে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। আগামী ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিলটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।