ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলমান তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আর্জেন্টিনার আদালতে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দাবি করেছেন, ম্যারাডোনার কিডনি ক্রমশ বিকল হয়ে পড়লেও চিকিৎসকেরা বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। তার মতে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
বুয়েনস আইরেসের আদালতে নেফ্রোলজিস্ট হার্নান ট্রিমার্কি জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ম্যারাডোনার প্রতিদিন রক্তপরীক্ষা ও শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মৃত্যুর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ তাঁর কোনো রক্তপরীক্ষা করা হয়নি।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যান ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে অস্ত্রোপচারের পর তিনি ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি তাঁর ফুসফুসে পানি জমেছিল। বুয়েনস আইরেসের কাছে একটি ভাড়াবাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী সহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। হাসপাতালে ভর্তি না করে তাঁকে ভাড়া বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আদালতে ট্রিমার্কি আরও বলেন, ম্যারাডোনার মাদকাসক্তি, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপ তাঁর শারীরিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। মৃত্যুর আগে তাঁর শরীর ফুলে ওঠার বিষয়টিও গুরুতর শারীরিক অবনতির ইঙ্গিত ছিল বলে জানান তিনি। এর আগে আদালতে ম্যারাডোনার মৃত্যুর সময়কার ছবি এবং ময়নাতদন্তের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে তিনি শারীরিক যন্ত্রণায় ছিলেন।
এ নিয়ে তিনজন বিশেষজ্ঞ আদালতে চিকিৎসকদের গাফিলতির বিষয়ে মত দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিচারক মামলাটির রায় দিতে পারেন বলে জানা গেছে।