পল ডুগান হাসপাতালে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান। ছবি: সরবরাহকৃত
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট: ইন্দোনেশিয়ার বালিতে কথিত হামলায় অস্ট্রেলিয়ার পার্থের এক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় চার অস্ট্রেলীয় নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দেশটির পুলিশ। নিহত পল ডুগান গত ৫ আগস্ট কুতার ওয়ান ট্রাইব বারে কথিত হামলার শিকার হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পুলিশের কাছে দেওয়া এক সাক্ষ্য বিবৃতিতে ডুগানের ছেলে লিয়াম জানিয়েছেন, একজন পুরুষকে এক নারীকে মারধর করতে দেখে তার বাবা সেখানে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। এরপর একদল পুরুষ তার বাবার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারের বন্ধু ডেভিড কফট্রি বলেন, ‘সে কখনোই ঝামেলা খুঁজে বেড়ানোর মতো মানুষ ছিল না। তাকে একজন ব্যক্তি ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসা করেন, “তুমি কী বললে?” তিনি উত্তর দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাকে আঘাত করেন।’
ডেনপাসার সিটি পুলিশ শুক্রবার জানিয়েছে, কথিত হামলার ঘটনায় চার অস্ট্রেলীয় নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ তাদের সম্ভাব্য ভূমিকা, ঘটনার সময় তাদের অবস্থান এবং হামলার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে।

৫ আগস্ট কুতার ওয়ান ট্রাইব বারে (ছবিতে) কথিত হামলার শিকার হওয়ার পর পল ডুগান পাঁজর ভাঙা ও শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছবি: 9News
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত হামলার পর ডুগান নিজের হোটেলে ফিরে যান। পরে ৮ আগস্ট তাকে মুর্নি তেগুহ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর পর শুক্রবার ময়নাতদন্ত করার কথা ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন চার অস্ট্রেলীয় হামলার পরদিনই ইন্দোনেশিয়া ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার অ্যাভালনে একসঙ্গে যান।
ডুগানের ছেলে লিয়াম এর আগে জানিয়েছিলেন, হামলার পর তার বাবার কয়েকটি পাঁজর ভেঙে যায় এবং শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকেরা তার তিনবার বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করেন। এর মধ্যে একটি অস্ত্রোপচারে তার প্লীহা (spleen) অপসারণ করা হয়।
এ ছাড়া তাকে চারবার রক্ত দেওয়া হয়। ফুসফুস ও পেট থেকে জমে থাকা তরল ও রক্ত বের করার জন্য বিভিন্ন স্থানে ড্রেনও বসানো হয়েছিল।
বাবার মৃত্যুর দিন বৃহস্পতিবার কুটা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন লিয়াম।

ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন লিয়াম। ছবি: @liammdougan
ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পল ডুগানের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। একইভাবে এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায়ও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ডেনপসার সিটি পুলিশের প্রধান সিনিয়র কমিশনার লিওনার্দো ডেভিড সিমাতুপাং বলেন, ঘটনার প্রকৃত চিত্র বের করতে তদন্ত চলছে।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং ভুক্তভোগীর মৃত্যুর কারণসহ পুরো বিষয়টি আমরা স্পষ্টভাবে বের করার চেষ্টা করছি। আইন ও বিধি অনুযায়ী পেশাদারভাবে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে।’
তদন্তের অংশ হিসেবে ডুগানের পরিবারের সদস্য, বারের কর্মী এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।

গতকাল এক আবেগঘন ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বাবার মৃত্যুর খবর জানান লিয়াম। সেখানে তিনি লেখেন, তিনি ‘বিধ্বস্ত, দিশেহারা ও হৃদয়ভাঙা’। ছবি: 9News
বাবার মৃত্যুর পর ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক পোস্টে লিয়াম লিখেছেন, তিনি ‘বিধ্বস্ত, দিশেহারা ও হৃদয়ভাঙা’।
বাবাকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘বাবা, এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। আমি সারাজীবন তোমাকে ভালোবাসব ও মনে রাখব এবং তোমাকে গর্বিত করার চেষ্টা করে যাব।’
বাবার চিকিৎসার সময় লিয়াম জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা ব্যয় ৭১ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি হয়ে গেছে। এই ব্যয় সামাল দিতে পরিবার অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়।সেই তহবিলে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক দপ্তর (DFAT) জানিয়েছে, তারা এর আগে পরিবারটিকে কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছিল না।
পল ডুগান ব্রিটিশ নাগরিক হলেও অন্তত দুই দশক ধরে পার্থে বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র-নাই.কম.এইউ